ভারতে বেঙ্গালুরুর প্রতিষ্ঠাতার মূর্তি উন্মোচন, বিশ্ব রেকর্ডে নাম

ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ডস বলছে, মূর্তিটি একজন নগরী প্রতিষ্ঠাতার প্রথম এবং সবচেয়ে উঁচু ব্রোঞ্জ মূর্তি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Nov 2022, 03:47 PM
Updated : 11 Nov 2022, 03:47 PM

ভারতে বেঙ্গালুরুর প্রতিষ্ঠাতা নাদপ্রভু কেম্পেগৌড়ার ১০৮ ফুট দীর্ঘ ব্রোঞ্জ মূর্তি উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মূর্তিটি বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকা। লন্ডনের ‘ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ডস’ বলছে, মূর্তিটি একজন নগরী প্রতিষ্ঠাতার প্রথম এবং সবচেয়ে উঁচু ব্রোঞ্জ মূর্তি।

একে বলা হচ্ছে, 'সমৃদ্ধির মূর্তি'৷ বেঙ্গালুরুর উন্নতিতে নগরীর প্রতিষ্ঠাতা কেম্পেগৌড়ার অবদানের স্মরণে এটি তৈরি করা হয়েছে। ‘ভারতের সিলিকন ভ্যালি’ খ্যাত ব্যাঙ্গালুরুতে আছে ভারতের সবচেয়ে বড় বড় আইটি কোম্পানি এবং ব্যবসায়িক নানা উদ্যোগ।

বিবিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রী মোদী শুক্রবার কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২২০ টন ওজনের ওই মূর্তি উদ্বোধন করেছেন। মূর্তিটির হাতে ৪ টন ওজনের একটি তলোয়ার রয়েছে।

মূর্তি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৮৫ কোটি রূপি। বিমানবন্দর চত্বরে ২৩ একর জমির একটি হেরিটেজ থিম পার্কে এটি নির্মিত হয়েছে। ২০১৯ সালে রাজ্য সরকার এই মূর্তি এবং থিম পার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেয়।

ভারতের খ্যাতনামা ভাস্কর রামভাঞ্জি সুতার কেম্পেগৌড়ার মূর্তিটি তৈরি করেছেন। তিনি গুজরাটে বল্লভভাই প্যাটেলের ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ এবং ব্যাঙ্গালুরুর বিধান সৌধে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিও তৈরি করেছেন।

রাজ্য নির্বাচনের কয়েকমাস আগে দিয়ে মুর্তিটি উদ্বোধন করা হল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দীপিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কেম্পেগৌড়া এই ভোক্কালিগা সম্প্রদায়েরই একজন ছিলেন।

সাবেক বিজয়নগর সাম্রাজ্যের অধীনে একজন সামন্ত শাসক ছিলেন কেম্পেগৌড়া। ১৫৩৭ সালে বেঙ্গালুরু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে ‍পুরাতন মাইসুরু এবং দক্ষিণ কর্ণাটকের অন্যান্য অংশে প্রভাবশালী ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন কেম্পেগৌড়া।

নিজের মন্ত্রীর সঙ্গে শিকারে বেরিয়ে নতুন নগরী পত্তনের ভাবনা মাথায় এসেছিল তার। এরপর নগরীর সীমানা ঘেরার জন্য চার দিকে চারটি স্তম্ভ তৈরি করেছিলেন কেম্পেগৌড়া। তৈরি করেছিলেন হাজার খানেক হ্রদ। যাতে চাষাবাদ এবং সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হয়। নগরীর সবখানেই ছড়িয়ে আছে তার নাম।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক