জাপানে আকিহাবারা হত্যাযজ্ঞের খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

টোকিওর আকিহাবারা শপিং এলাকায় পথচারীদের ওপর চড়াও হয়ে ৭ জনকে হত্যার ঘটনায় খুনির মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আট বছর পর তা কার্যকর করল জাপান।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 01:43 PM
Updated : 26 July 2022, 01:43 PM

২০০৮ সালে রাজধানী টোকিওর আকিহাবারা শপিং এলাকায় পথচারীদের ওপর চড়াও হয়ে ৭ জনকে হত্যার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে জাপান।

দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ওই হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী তমহিরো কাতো নামের এই খুনি।

কাতোর মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আট বছর পর মঙ্গলবার তা কার্যকর করার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে জাপান সরকার।

বিবিসি জানায়, হামলার ঘটনার সময় কাতোর বয়স ছিল ২৫। আকিহাবারা শপিং এলাকায় দুপুরের খাবারের সময় পথচারীদের ভিড়ে তিনি একটি ট্রাক উঠিয়ে দিলে তিনজন নিহত হন।

পরে কাতো ছুরিকাঘাতে চারজনকে হত্যা করেন। তার ছুরির আঘাতে আহত হন আরও ৮ জন।

পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছিল।

পরে আদালতে বিচার চলার সময়ে কাতো নিজেও তার অপরাধের স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, অনলাইনে বুলিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ কাজ করেন।

এই হামলার ঘটনা জাপানের সমাজে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড, অনলাইনের প্রভাব এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে ব্যর্থতা নিয়ে সে সময় তুমুল বিতর্ক হয়। ঘটনার পর ছুরির মালিকানা আইনও কঠোর করা হয়।

জাপানের আইনমন্ত্রী ইয়োশিহিসা ফুরুকাওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আদালতে পুরোপুরি এর বিচার হয়েছে এবং আদালত চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে... মামলাটি বিচার-বিবেচনার ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।”

টোকিওর একটি কারাগারে কাতোর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ২০১৫ সালে আদালতে তার সাজা কমানোর আপিল ব্যর্থ হয়েছে।

কাতো গ্রেপ্তার হওয়ার সময় পুলিশকে বলেছিলেন, তিনি মানুষ মারতেই আকিহাবারায় গিয়েছিলেন। তিনি কাকে খুন করবেন তাতে তার কিছুই আসে যায় না।

ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করা কাতো একটি ভাল স্কুলেই পড়াশুনা করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ফেল করেন এবং পরবর্তীতে একটি চাকরি ধরে রাখতেও তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল।

তার বিচারের সময় কৌসুঁলিরা আরেক যুবক, যিনি ক্রোধ এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে অনলাইনে বেশ ক’টি পোস্ট করেছিলেন, তার উদাহরণ টেনে এনেছিলেন।

কৌসুলিরা বলেছেন, এক নারীর সঙ্গে অনলাইনে কাতোর পরিচয় হওয়ার পর সেই নারী যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।

টোকিও জেলা আদালত কাতোকে ২০১১ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানই একমাত্র দেশ, যেখানে আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার মধ্যেও শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর রয়েছে।

গত ডিসেম্বরে তিনজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তমহিরো কাতোর মামলাই এ বছরের প্রথম মৃত্যুদণ্ড বলে জানিয়েছে বিবিসি।

তাছাড়া, জাপানের কারাগারে এখনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় আছে আরও শতাধিক বন্দি।

জাপানের আইনমন্ত্রী ইয়োশিহিসা ফুরুকাওয়া মৃত্যুদণ্ড জিইয়ে রাখার বিষয়ে মঙ্গলবার বলেন: "যেহেতু জঘন্য অপরাধের কোনও শেষ নেই, তাই মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে। মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার এখনই উপযুক্ত সময় নয়।"

২০২১ সালে শেষ দিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ক্ষমতায় এলে জাপানে পুনরায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হয়। এর আগে দেশটিতে দু’বছরে কোনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক