০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মাইক্রোসফটসহ শীর্ষ আইটি ফার্মের গ্রিন কার্ড স্থগিত, বিপাকে বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীরা

মাইক্রোসফটসহ বড় আইটি ফার্মগুলোর গ্রিন কার্ড স্থগিতের পাশাপাশি হার্ভার্ড-স্ট্যানফোর্ডসহ ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মাইক্রোসফটসহ শীর্ষ আইটি ফার্মের গ্রিন কার্ড স্থগিত, বিপাকে বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীরা

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 01:15 PM

Updated : 09 Oct 2026, 01:15 PM

জালিয়াতি বন্ধ ও আমেরিকানদের চাকরি রক্ষার দোহাই দিয়ে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ প্রধান আইটি কোম্পানিগুলোর গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

পাশাপাশি ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগে হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়েও তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই দুই পদক্ষেপে বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পথ যেমন রুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে, তেমনি মার্কিন গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটের চেয়ে বেশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার আর কোনো কোম্পানি করেনি।”

তিনি বলেন, মাইক্রোসফট গত বছর ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করলেও ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ডের সুযোগ নিয়েছে।

মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী লেবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় আবেদনকারী মাইক্রোসফট।

মার্কিন শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং বলেছেন, এই স্থগিতাদেশ কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ওপরও প্রযোজ্য হবে। এসব কোম্পানির নতুন কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

তবে এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়।

এদিকে ভারতীয় আইটি শিল্প সংস্থা ‘নাসকম’ জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার করে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নেওয়ার অভিযোগে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন এবং এমআইটি-সহ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

শ্রম বিভাগের পরিদর্শক প্রধান অ্যান্টনি ডি’এসপোসিটো জানান, ইতোমধ্যে সমন জারি করা হয়েছে এবং বিদেশি প্রভাব বা আর্থিক অনিয়ম রাষ্ট্রীয় গবেষণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশন সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরো মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি (৪০ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করে থাকেন।

এদিকে আইটি খাতে কড়াকড়ির দিনেই ট্রাম্প মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা ও টেসলা মালিক ইলন মাস্ককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেন, যারা দুজনই একসময় এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।