‘রক্তাক্ত শুক্রবার’ স্মরণে ইরানে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

মাস দেড়েক আগে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক দিনেই কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণে এ বিক্ষোভ দেখায় তারা।  

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Nov 2022, 09:38 AM
Updated : 12 Nov 2022, 09:38 AM

ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভ থামাতে ধর্মীয় শাসকদের হিমশিম খাওয়ার মধ্যে দেশটির অশান্ত দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে বিক্ষোভ করেছে কয়েক হাজার ইরানি।

মাস দেড়েক আগে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক দিনেই কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণে এ বিক্ষোভ দেখায় তারা।  

গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা বাহিনীর ওই নির্মম দমনপীড়নের পর আন্দোলনকারীদের কাছে দিনটি ‘রক্তাক্ত শুক্রবার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সেপ্টেম্বরের ওইদিন সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী জেহেদানে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৬৬ বিক্ষোভকারী নিহত হয়।

বিক্ষোভকারীরাই ওই সংঘর্ষ উসকে দিয়েছিল বলে ভাষ্য কর্তৃপক্ষের।

ওই দিনের স্মরণে শুক্রবার জেহেদানে কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভের একটি ভিডিও টুইটারে দিয়েছে আন্দোলনকারীদের খবরাখবর দেওয়ার জন্য সুপরিচিত অ্যাকাউন্ট ১৫০০ তাসবির। তবে ওই ভিডিও ফুটেজের সত্যতা রয়টার্স যাচাই করতে পারেনি।

আরেকটি ভিডিওতে ১৫০০ তাসবির দক্ষিণপূর্বের খাশের বিক্ষোভকারীরা কাশেম সোলেমানির নাম লেখা একটি সড়কচিহ্ন পায়ে দলছে ও ভেঙে ফেলেছে তা দেখিয়েছে।

ইরানের অন্যতম শীর্ষ জেনারেল সোলেমানিকে ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল।

স্থানীয় এক কিশোরীকে এক পুলিশ কর্মকর্তার ধর্ষণের অভিযোগ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই ইরানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে জনরোষ উসকে উঠেছিল।

কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, তারা ধর্ষণের অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রটিতে নারীদের জন্য যে কঠোর পোশাক বিধান রয়েছে, তা লংঘনের অভিযোগে কুর্দি নারী মাশা আমিনিকে গ্রেপ্তারের পর নীতি পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভও শুরু হয়।

দেশজুড়ে সেসব বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী বড় আন্দোলনের জন্ম দেয়, যেখানে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, আইনজীবী, শ্রমিক, খেলোয়াড়রাও অংশ নেন এবং বেশিরভাগ মানুষই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনির প্রতি তাদের ক্ষোভ উগরে দেন। 

বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর হয়ে উঠলে বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সহিংসতা দেখা দেয়। বিভিন্ন দেশ এ সংঘাত-সহিংসতা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর বল প্রয়োগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

জার্মানি ও আইসল্যান্ডের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের ‘অবনতিশীল’ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদে এ মাসের শেষদিকে বিতর্কও চেয়েছে বলে একটি নথিতে দেখা গেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক