ইরানে বিক্ষোভ দমনে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার প্রেসিডেন্টের

ইরানের ‘নীতি পুলিশের’ হেফাজতে ২২ বছরের তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Sept 2022, 01:19 PM
Updated : 25 Sept 2022, 01:19 PM

ইরানে পুলিশি হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান বিক্ষোভ ‘চূড়ান্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দমনের অঙ্গীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

বিবিসি জানায়, বহু বিক্ষোভকারী এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে গেছে ৩১ টিরও বেশি প্রদেশজুড়ে। কয়েকটি নগরীতে সংঘর্ষ চলছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

তিনি বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গা সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরানের ‘নীতি পুলিশের’ হেফাজতে ২২ বছরের তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।

গত সপ্তাহে ইরানের কুর্দিস্তান থেকে রাজধানী তেহরানে আসা ২২ বছর বয়সী নারী মাশা আমিনিকে হিজাব আইন লংঘনের দায়ে গ্রেপ্তার করেছিল নগরীর নীতি পুলিশ। গত শুক্রবার তাদের হেফাজতে মাশার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার আগে ওই তরুণী তিনদিন কোমায় ছিলেন।

মানবাধিকার বিষয়ে ইরানে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার নাদা আল-নাশিফ বলেন, তারা জানতে পেরেছেন নীতি পুলিশ আমিনির মাথায় লাঠি দিয়ে মেরেছে এবং তাদের একটি গাড়ির সঙ্গে আমিনির মাথা জোরে ঢুকে দিয়েছে।

নীতি পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য এইসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। তাদের দাবি, আমিনি ‘হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন’। তবে আমিনির পরিবার বলেছে, সে একেবারেই সুস্থ এবং সবল ছিল।

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেছেন, ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ভাহিদিও জোর দিয়ে বলেছেন, আমিনিকে মারধর করা হয়নি।

রাইসি শনিবার দেশে অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রকরীদের দায়ী করেছেন। কিন্তু এবার মানুষ নিষ্ঠুর শাসকদের কোনওরকম ভয় না পেয়ে রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছে।

ইরানে ২০০৯ সালের বিক্ষোভ কিংবা তারও আগে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের চেয়েও এবার বড় ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার বিষয়ক একটি এনজিও’র নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, এবার কেবল বড় শহরগুলোতেই নয় ছোট শহরগুলোতেও লোকজন রাস্তায় নেমে আসছে, যেরকম আগে কখনও দেখা যায়নি। মানুষ এখন অনেক বেশি একতাবদ্ধ।

জনগণের এই সম্মিলিত শক্তির মধ্যে প্রেসিডেন্ট রাইসি কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমনের যে অঙ্গীকার করেছেন তাতে শহর-নগরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ারই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক