জার্মানিতে ২০ হাজার হাতি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি বতসোয়ানার

হান্টিং ট্রফি আমদানির ওপর জার্মানি কড়াকড়ি করলে এ পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 April 2024, 01:13 PM
Updated : 3 April 2024, 01:13 PM

জার্মানিতে ২০ হাজার হাতি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট। হান্টিং ট্রফি আমদানির ওপর জার্মানি কড়াকড়ি করলে এ পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

বিবিসি জানায়, চলতি বছরের শুরুতে শিকার করা বন্যপ্রাণীর ট্রফি আমদানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত বলে মত দিয়েছে জার্মানির পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

বিনোদনের জন্য বন্যপ্রাণী শিকারকে বলা হয় ট্রফি হান্টিং। ট্রফি শিকারিরা সাধারণত বন্যপ্রাণির দেহের মাথা, চামড়া, শিং কিংবা দাঁত সংগ্রহ করে নিজেদের বীরত্ব ও সফলতার প্রতীক হিসেবে তা প্রদর্শন করে থাকে।

প্রাণী অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলে আসছে, ট্রফি হান্টিং- (কোনও বন্যপ্রাণীকে গুলি করে হত্যা করা এবং এরপর তার মাথা কিংবা চামড়া ট্রফি হিসাবে ঘরে সাজিয়ে রাখা)- অত্যন্ত নিমর্ম। এ চর্চা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।

বতসোয়ানায় বিশ্বের মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশের বাস। সংখ্যার হিসাবে যা এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি। সেকারণে দেশটিতে ট্রফি হান্টিং হয় বেশি। ২০১৪ সালে বতসোয়ানা এই চর্চা নিষিদ্ধ করলেও স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছ থেকে চাপের মুখে ২০১৯ সালে আবার তা তুলে নিয়েছিল।

এখন দেশটিতে বার্ষিক হাতি শিকারের কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে দেশটিতে বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয় এবং এটি আয়ের একটি উৎসও বটে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট মোকউইৎসি মাসিসি জার্মানির বিল্ড পত্রিকাকে বলেছেন, হান্টিং ট্রফি আমদানিতে জার্মানির কঠোর বিধিনিষেধ কেবল বতসোয়ানার মানুষকে দারিদ্র্যের মুখেই ঠেলে দেবে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রচেষ্টার কারণে বতসোয়ানায় হাতির সংখ্যা বেড়ে গেছে। শিকার করা হলে এই প্রাণীদের সংখ্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য বতসোয়ানায় হাতির সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়ে তাদের উৎপাতও বেড়েছে। হাতির পাল প্রায় সময় লোকালয়ে ঢুকে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করে, ফসল খেয়ে ফেলে। এমনকি অনেক সময় হাতির পায়ের নিচে পড়ে মানুষও মারা যায়।

প্রেসিডেন্ট মাসিসি বলেন, ‘জার্মানরা যেভাবে আমাদেরকে বন্য প্রাণীর সঙ্গে থাকতে বলে, তাদেরও সেভাবেই বাস করা উচিত। এটি কোনও কৌতুককর বিষয় নয়।”

হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আগে প্রতিবেশী দেশ অ্যাঙ্গোলায় ৮ হাজার হাতি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে বতসোয়ানা। এছাড়া, মোজাম্বিককে আরও কয়েকশ হাতি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে দেশটি।

বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট মাসিসি বলেন, “আমরা জার্মানিকেও এমন উপহার দিতে চাই। এক্ষেত্রে আমি না শুনব না।”

হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে আফ্রিকান হাতির ট্রফি এবং অন্যান্য হান্টিং ট্রফির সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ জার্মানি। এখন এসব ট্রফি আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে দেশটি।

বার্লিনে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, বতসোয়ানা এখনও এই বিধিনিষেধের বিষয়ে জার্মানির কাছে কোনও উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।