ভারতে ও নেপালে বন্যা, ভূমিধসে নিহত ১৯
ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১৯ গুণ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভারত ও প্রতিবেশী নেপালে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে আর আরও ১০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রোববার রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ১৫ জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে উত্তর প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে ৬৩টি জেলার ১১৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১৯ গুণ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নেপালের বাগলুং জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রাসাদ আচার্য জানিয়েছেন, রাতে নিশি খোলা গ্রামে এক ভূমিধসের ঘটনায় তিন শিশু ও এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। ভূমিধসে তাদের বাড়ি চাপা পড়ার সময় তারা ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন।
নেপালের হাইকিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলার ৭১২৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হিমলুং হিমাল বেইস ক্যাম্পে তুষারধসের ঘটনায় ১০ নেপালি শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। ওই শ্রমিকরা বিদেশি পবর্তারোহীদের জন্য তাঁবু খাটাচ্ছিল। ঘটনার সময় ওই পবর্তারোহীরা সেখানে ছিলেন না।
নেপালের কর্তৃপক্ষ দেশটির ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে সম্ভাব্য হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়তে থাকায় অর্ধেকেরও বেশি জেলা প্রবল বন্যা ও হড়পা বানের ঝুঁকিতে আছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মাহাত জানিয়েছেন, রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সতর্ক অবস্থায় থাকলেও এগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে না। গত মাসে প্রাণঘাতী হড়পা বানে এই দুই জেলায় প্রায় দেড় হাজার জন নিহতের পাশাপাশি আরও কয়েক হাজার এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
দেশটির পানি সম্পদ ও বিদ্যুৎমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, রাহুগঙ্গা নদীর বন্যায় ৪০ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চলন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, সাতটি রাজ্যের ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ স্টেশন ‘গুরুতর পরিস্থিতিতে’ আছে। এসব স্থানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা ও অতীতের সর্বোচ্চ বন্যার পানির স্তরের মাঝামাঝি অবস্থানে আছে।
গঙ্গা, গন্ধক, কোশি, বাগমতি ও নর্মদার মতো বেশ কয়েটি প্রধান নদীর পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনগুলোতে বিপৎসীমার উপরে আছে।
নেপালের যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনহা জানিয়েছেন, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের কয়েক জায়গায় অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টেলি যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে।
