চীনা তহবিল নেওয়ার অভিযোগে দিল্লিতে সাংবাদিকদের বাড়িতে পুলিশ

পুলিশ অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Oct 2023, 11:32 AM
Updated : 14 Oct 2023, 11:32 AM

অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘নিউজক্লিক’ এর তহবিল সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরে ভারতের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

তাদের মধ্যে আছেন নিউজক্লিকের সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ, সাংবাদিক অভিসার শর্মা, অনিন্দ্য চক্রবর্তী এবং ভাষা সিং, জনপ্রিয় রম্যলেখক সঞ্জয় রাজোরা এবং ইতিহাসবিদ সোহেইল হাশমি।

মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে এসব অভিযানে তাদের মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায়ও নেওয়া হয়েছে।

নিউজক্লিক চীন থেকে ‘অবৈধ তহবিল’ পেয়েছে– এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালিয়েছে দিল্লির পুলিশ। সংবাদমাধ্যমটি জোরালোভাবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর ‘ইচ্ছাকৃত হামলা’।

পুলিশ অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে অভিসার শর্মা সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, পুলিশ তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। ভাষা সিংও তার মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

দিল্লিতে নিউজক্লিকের দপ্তরেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআইএ। সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘চীনা প্রপাগান্ডা’ ছড়ানোর জন্য মার্কিন এক ধনকুবেরের কাছ থেকে তহবিল নিয়েছে তারা।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করার পর ১৭ অগাস্ট নিউজক্লিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে ভারতের আর্থিক খাতের তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি); সেই মামলার সূত্র ধরেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন ধনকুবের নেভিল রায় সিংহাম ‘চীন সরকারের মিডিয়া মেশিনের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং তার অলাভজনক গ্রুপগুলোর নেটওয়ার্ক ও শেল কোম্পানিগুলোকে ‘চীনের পক্ষে বিশ্বব্যাপী প্রপাগান্ডা চালানোর জন্য আর্থায়ন করতে’ ব্যবহার করছেন।  

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আর্থিক অসঙ্গতির জন্য অনেকগুলো গণমাধ্যম সরকারি তদন্তের মুখে পড়ে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।   

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার তাদের চলতি বছরের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে ১৬১তম স্থানে রেখেছে। দেশটির পরিস্থিতি ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে নেমে গেছে মন্তব্য করে ভারতকে ১৫৩তম স্থানে থাকা তাজিকিস্তান এবং ১৬৫তম স্থানে থাকা তুরস্কের সঙ্গে তুলনা করেছে তারা। সংবাদসূত্র: বিবিসি

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ৩ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে:

https://www.facebook.com/bdnews24/posts/pfbid02wt4AADZWfWKiWVhg1j6jfkJNrg8EiXB98kyXR2btAR8sSt3Yju1MxYwAMsXRNBr2l