নতুন করে সংঘর্ষে জড়াল আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান

আজারবাইজান স্বীকার করেছে, সংঘর্ষে তাদের সেনারা হতাহত হয়েছে। আর্মেনিয়া কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা না জানিয়ে বলেছে, রাতভর সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 05:30 AM
Updated : 13 Sept 2022, 05:30 AM

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সেনারা বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে কয়েক দশকের পুরনো শত্রুতার জেরে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

মঙ্গলবার ভোররাতে রুশ বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের সেনারা হতাহত হয়েছে বলে আজারবাইজান স্বীকার করেছে। আর্মেনিয়া কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা না জানিয়ে বলেছে, রাতভর সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।

২০২০ সালে ছয় সপ্তাহের এক লড়াইয়ে আজারবাইজান নাগর্নো-কারাবাখের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

এবারের সংঘর্ষের জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

বার্তা সংস্থা তাস আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, “আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো মর্টারসহ বিভিন্ন ক্যালিবারের অস্ত্র দিয়ে আজারবাইজানের সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কয়েকটি অবস্থান, আশ্রয়স্থল ও রিইনফোর্সমেন্ট পয়েন্টে তীব্র গোলাবর্ষণ করেছে। এতে প্রাণহানি ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

আজারবাইজানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সীমান্তে আর্মেনিয়ার বাহিনী গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে, এই এলাকায় অস্ত্র নিয়ে এসেছে এবং সোমবার রাতে খনন অভিযান চালিয়েছে।

‘সামরিক লক্ষ্যস্থলে হামলার জন্যই তারা এসব করেছে’ বলে অভিযোগ দেশটির।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, “তীব্র গোলাগুলি অব্যাহত আছে। আজারবাইজানের পক্ষের বড় মাপের উস্কানির ফলে এ গোলাগুলি শুরু হয়। আর্মেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনীগুলো সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।”

আর্মেনিয়ার সরকার জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি আহ্বান করবে এবং রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্লক কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন প্রতি আবেদন জানাবে, পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছেও আবেদন জানাবে।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশাপাশি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্লিনকেন অবিলম্বে সহিংসতা থামানোর জন্য দুই পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৮০-র দশকে সোভিয়েত শাসনে থাকার সময়ই প্রথম আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ওই সময় আর্মেনিয়ার বাহিনীগুলো নাগর্নো-কারাবাখের কাছে বিশাল এলাকা দখল করে নেয়। নাগর্নো-কারাবাখ ভূখণ্ডটি আজারবাইজানের অংশ, দীর্ঘদিন ধরে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও এখানে আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতি আছে।

২০২০ সালের লড়াইয়ে আজারবাইজান এসব অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে। ওই সময় রাশিয়ার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতে লড়াই থামে এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বহু মানুষ ফিরে আসে।

এরপর থেকে দুই দেশের নেতারা স্থায়ী একটি শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে বেশ কয়েকবার মিলিত হয়েছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক