০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ককপিটে কুঠার দিয়ে পাইলটকে আক্রমণ করেন ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট: ইউএই

ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলার চক্রান্ত’ ছিল।

ককপিটে কুঠার দিয়ে পাইলটকে আক্রমণ করেন ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট: ইউএই

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। ছবি: রয়টার্স

Rabiul Islam Tuhin Rabiul Islam Tuhin

Published : 03 Oct 2026, 06:16 PM

Updated : 03 Oct 2026, 06:16 PM

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এক উড়োজাহাজের ককপিটে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা কুড়াল দিয়ে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন কো- পাইলট।

শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সরকারি আইনজীবীরা এমনটি জানিয়েছেন বলে খবর সিএনএনের।

ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ডাব্লিউএএম-কে জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলার চক্রান্ত’ ছিল।

ঘটনাটিকে 'সন্ত্রাসী হামলার চক্রান্ত' হিসেবে আমিরাত কর্তৃপক্ষের এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি।

বুধবার সকালে দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি। ভেতরে ছিলেন ১৮০ জন যাত্রী।

উড়োজাহাজটি চালাচ্ছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মাঝ-আকাশে থাকাকালে ককপিটের ভেতরে থাকা জরুরি কুড়াল নিয়ে প্রধান পাইলটের ওপর চড়াও হন ওমানি বংশোদ্ভূত সহকারী পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি।

উড্ডয়ন ট্র্যাকিং সংস্থা ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্যে দেখা যায়, সৌদি আরবের আকাশে বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে ১৬ হাজার ৬২৫ ফুট নিচে নেমে আসে।

তবে ক্রু ও যাত্রীদের তৎপরতায় অভিযুক্তকে কাবু করা সম্ভব হয়। বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের অপর এক রিজার্ভ পাইলট দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটি জরুরি অবতরণ করান।

পরবর্তীতে আটক সহকারী পাইলটকে চিকিৎসার পর সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে সিএনএন লিখেছে, ঘটনার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর অভিযুক্ত সহকারী পাইলটের একই নাম ও ছবি ব্যবহার করা লিঙ্কডইন এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়।

ভিডিওগুলো তিনি নিজে আগে থেকে শিডিউল করে রেখেছিলেন নাকি অন্য কেউ প্রকাশ করেছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

একটি ভিডিওতে ককপিট থেকে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা ‘এল আল’ ও ‘আরকিয়া’-এর উড়োজাহাজ লক্ষ্য করার দৃশ্য দেখা যায়।

ভিডিওটির শেষে আল কায়দার সাবেক প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে সিআইএ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালানো আত্মঘাতী উগ্রপন্থী হুমাম খলিল আল-বালাউইর ছবি যোগ করা হয়।

দ্বিতীয় ভিডিওতে মক্কার কাবা শরীফ, মদিনা ও জেরুজালেমের এআই ছবির পটভূমিতে মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার আকুলতা জানিয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করা হয়।

পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট দুটি মুছে ফেলা হয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইনস্টাগ্রামের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বক্তব্য চেয়েছে সিএনএন।

যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি নেওয়া হাম্মামের জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

সিএনএন জানিয়েছে, উগ্র ধর্মীয় ভাবাদর্শ প্রকাশের কারণে গত বছরের শুরুতে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘ওমান এয়ার’-এর পাইলট ট্রেইনিং থেকে হাম্মামকে সরিয়ে অন্য পদে বদলি করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে তিনি মরক্কোর ‘রয়্যাল এয়ার মারোক’-এ কিছুদিন চাকরি করার পর মাত্র আট মাস আগে ইউএই সরকারের মালিকানাধীন ‘ফ্লাইদুবাই’-এ যোগ দেন।

উগ্র ভাবাদর্শের পূর্ব ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও তাকে পাইলট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।

অভিযুক্ত সহকারী পাইলট উগ্র ইসলামি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মঘাতী আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এই চক্রান্তে আন্তর্জাতিক কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হাত বা ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইউএই-এর নেতৃত্বাধীন সর্বাত্মক তদন্তে সরাসরি যুক্ত হয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাও।

আরও পড়ুন:

ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজের আক্রমণকারী কো-পাইলট উগ্রবাদে দীক্ষিত, দাবি নেতানিয়াহুর