০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজের আক্রমণকারী কো-পাইলট উগ্রবাদে দীক্ষিত, দাবি নেতানিয়াহুর

দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের কো-পাইলট আত্মঘাতী মনোভাবাপন্নও ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজের আক্রমণকারী কো-পাইলট উগ্রবাদে দীক্ষিত, দাবি নেতানিয়াহুর

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Oct 2026, 09:01 PM

Updated : 02 Oct 2026, 09:42 PM

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের সেই আক্রমণকারী কো-পাইলট ইসলামপন্থি উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষা নিয়েছিলেন।

ওই যুবক পাইলটকে মেরে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি (কো-পাইলট) নিজে স্পষ্টতই আত্মঘাতী মনোভাবাপন্ন ছিলেন, বলেছেন নেতানিয়াহু।

প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল বলছে, কো-পাইলট ওমানের নাগরিক। তবে ওমান কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা জানি তিনি ইসলামপন্থি উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত। তার ব্যক্তিগত তথ্য থেকে এ বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি।”

“তাকে যখন ধরে ফেলা হয়েছিল তখন তিনি, ‘আমাকে মেরে ফেল, মেরে ফেল’ বলে ও চিৎকার করছিলেন। এতেই স্পষ্ট যে, তিনি আত্মহত্যা করতেই চেয়েছিলেন।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, “খুব সম্ভবত কো পাইলট উড়োজাহাজটিকে মাটিতে ফেলে দিতে চাইছিলেন। তার অতীত ঘাঁটলে ইসলামপন্থি প্রবণতা, উগ্রবাদ পাওয়া গেছে। এটি বেশ জোরালো একটা ক্লু বলে আমার মনে হয়। তবে আমি এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে চাই না। আপাতত এই ইঙ্গিত পেয়েছি।’’

দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বিমানের সহ-পাইলট (কো-পাইলট) একার উদ্যোগেই ওই কাজ করেছেন। তার পেছনে কোনও সংগঠনের হাত নেই। তবে এই বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে।

গত বুধবার সকালে দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি। ভেতরে ছিলেন ১৮০ জন যাত্রী।

উড়োজাহাজ চালাচ্ছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মাঝ-আকাশে থাকাকালে ককপিটের ভেতরে তাকে ছুরি মারা হয়।

সহ-পাইলট ছুরির একাধিক কোপে তাকে জখম করেন। ফলে উড়োজাহাজ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় সেটি।

পরে যাত্রী এবংেউড়োজাহাজের অন্য কর্মীরা ককপিটে ঢুকে আক্রমণকারী পাইলটকে বাধা দেন এবং আহত ক্যাপ্টেনকে উদ্ধার করেন।

উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। একে ‘ছিনতাইয়ের চেষ্টা’ হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।

তবে ইসরায়েল আগেই গোটা ঘটনাকে জিহাদি হামলার চেষ্টা আখ্যা দিয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, ওই উড়োজাহাজে ইসরায়েলি নাগরিকের সংখ্যাই ছিল বেশি। তাদেরকে হত্যা করা হামলাকারীর উদ্দেশ্য ছিল।

সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চায়নি। আরব আমিরাত ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

আমিরাত জানার চেষ্টা করছে ঘটনাটি কীভাবে এবং কেন ঘটেছে, এর পেছনে কোনও সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য ছিল কি না, অথবা এটি আগে থেকে পরিকল্পনা করে করা হয়েছিল কি না।

আরব আমিরাতে ইসরায়েলের দূত ইয়োসি শেলি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, এখনই কোনও সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না এবং আক্রমণকারীর উদ্দেশ্য কি ছিল তা এখনও জানা যায়নি।

ওমান ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই ওমানের পাইলট কীভাবে ইসরায়েলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন, তাও এখনও স্পষ্ট নয়।

ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্স নিজেদের মতো তদন্ত শুরু করেছে। তা শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলে আর কোনও বিমান পাঠাবে না।

ককপিটে ধারাল অস্ত্র কোথা থেকে পেয়েছিলেন কো-পাইলট- এমন প্রশ্নে মনে করা হচ্ছে যে, ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ (ফায়ার কুঠার) দিয়ে পাইলট স্মিতকে আঘাত করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়মানুযায়ী এই কুঠার ককপিটে রাখা হয়। কারণ, আগুন লাগা বা জরুরি কোনও পরিস্থিতিতে বাধা সরানোর কাজে এই কুঠার ব্যবহার করা হয়।