২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজের পাইলট ও ক্রুদের সম্মানিত করল আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার এবং ক্রুদেরকে অন্যতম শীর্ষ সম্মাননা ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অব জায়েদ দ্বিতীয়’ দেওয়া হয়।

ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজের পাইলট ও ক্রুদের সম্মানিত করল আমিরাত

ছবি: এক্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 07:16 PM

Updated : 28 Oct 2026, 07:20 PM

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে সহ-চালকের হামলা মোকাবেলা করে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো সেই বীর ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার ও ক্রু সদস্যদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পক্ষ থেকে স্মিত মাচ্ছার এবং ক্রুদেরকে আমিরাতের অন্যতম শীর্ষ সম্মাননা ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অব জায়েদ দ্বিতীয়’ দেওয়া হয়।

গত সেপ্টেম্বরে আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে অঘটন এড়ানো এবং সাহসিকতার সঙ্গে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখায় তাদের এই সম্মান দেওয়া হল।

প্রেসিডেন্টের হয়ে দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট ও ফ্লাইদুবাইয়ের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সাইদ আল মাকতুমসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ ফ্লাইটে ঘটে রোমহর্ষক ঘটনা।

উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটের জরুরি কুঠার নিয়ে প্রধান পাইলট ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টা করেন।

হামলায় মারাত্মক আহত হওয়ার পরও দারুণ সাহসিকতার পরিচয় দেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। তিনি কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে ক্রু ও যাত্রীদের বিষয়টি জানান।

ক্যাপ্টেনের ডাক শুনে অফ-ডিউটিতে থাকা দুজন বৈমানিকসহ অন্য যাত্রীরা দ্রুত এগিয়ে এসে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাদের মধ্যে ইয়ানিভ হায়ুন নামে এক যাত্রী সহ-পাইলটকে চেপে ধরেন এবং জনপ্রিয় টিভি শো ‘মেডে’ দেখে শেখা অভিজ্ঞতায় বিমানটিকে স্থিতিশীল করেন।

আসাফ রাজুয়ান ও জভিকা মানেস নামে অন্য দুই যাত্রী ইয়ারফোনের তার দিয়ে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। আর পেশায় চিকিৎসক শোটা মুসায়েভ রক্তক্ষরণ হতে থাকা আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ককপিটেই জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

পাইলট ও যাত্রীদের এমন অসামান্য সাহসিকতায় নিশ্চিত বিপর্যয় ও ভয়াবহ প্রাণহানি থেকে বেঁচে যায় উড়োজাহাজটি। সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় সেটিকে।

হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে। সেখান থেকে পরে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। আমিরাতের সম্মাননা পেয়ে ইউএই নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাচ্ছার ও তার দলের সদস্যরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে কাজ করা ভারতীয় পেশাদারদের জন্যও ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের এই স্বীকৃতি বিশেষ গৌরবের বার্তা নিয়ে এসেছে।

বিশ্বের প্রধান এভিয়েশন হাব হিসেবে পরিচিত ইউএই-এর এই সম্মাননা আকাশপথের কর্মীদের দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার ওপরই ফের আলো ফেলল।