হারিয়ে যাওয়া তোতা ফিরে পেয়ে ৮৫ হাজার রুপি পুরস্কার

পাখিটি ফিরে পাওয়ার আনন্দে এর সন্ধানদাতাকে ঘোষিত পুরস্কারের চেয়েও বেশি নগদ অর্থ দিয়েছে ভারতের কর্ণাটকের এক পরিবার।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 06:42 PM
Updated : 26 July 2022, 06:42 PM

ভারতে কর্নাটক রাজ্যের একটি পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া তোতা পাখির সন্ধানদাতাকে ৮৫ হাজার রুপি পুরস্কার দিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছে।

হারানোর পাঁচদিন পর তোতা পাখিটির সন্ধান মিলেছে। তোতার মালিক শেট্টি পরিবার প্রথমে পাখিটিকে খুঁজে দিতে পারলে ৫০ হাজার রুপি (১ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

পরে পাখিটি ফিরে পাওয়ার আনন্দে এর সন্ধানদাতাকে ঘোষিত পুরস্কারের চেয়েও বেশি নগদ অর্থ, ৮৫ হাজার রুপি (১ হাজার ৬৫ ডলার) দেয় ওই পরিবার।

বিবিসি জানায়, রাজকীয় ‘আফ্রিকান গ্রে প্যারট’ প্রজাতির ওই তোতা পাখিটির নাম রুস্তোমা। কর্নাটকের শেট্টি পরিবার জানিয়েছে, দরজা খোলা পেয়ে পাখিটি বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল।

রুস্তোমা চলে যাওয়ার পর তার সঙ্গী রিও বিষন্ন হয়ে পড়ে। রিওও একই প্রজাতির তোতা। পাঁচ দিন পর প্রিয় সঙ্গীকে কাছে পেয়ে রিও এতটাই আনন্দিত হয় যে সে তার সঙ্গীর গালে চুমু এঁকে দেয়।

শেট্টি পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তিন বছর আগে ব্যাঙ্গালুরু থেকে তোতা দুটি কিনেছিলেন।

ভারতে এ প্রজাতির তোতা পোষা বেআইনি নয়। তবে দেশীয় পাখি সংরক্ষণবাদীরা প্রায়ই ভারতে বহিরাগত পাখির প্রজনন ও ব্যবসার উপর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে কথা বলে থাকেন।

শেট্টি পরিবারের কর্তা অর্জুন শেট্টি পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সব সময় পাখি দুটিকে আমাদের পরিবারের অংশ মনে করেছি। কখনও তাদেরকে খাঁচায় বন্দি করে রাখায় বিশ্বাসী ছিলাম না।”

পাখি দুটোও তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে বলে জানান অর্জুন। তিনি বলেন, ‘‘বিশেষ করে আমার সাত বছর বয়সের ছেলে ভিহানের সঙ্গে।

‘‘কিন্তু দিন দশেক আগে বাড়িতে কিছু আসবাবপত্র ঢোকানোর সময় দরজা খোলা পেয়ে রুস্তোমা উড়ে যায়। সঙ্গী চলে যাওয়াও রিও বিষন্ন হয়ে পড়ে, খাওয়াদাওয়াও ছেড়ে দেয়।”

অর্জুন জানান, তিনি পাখিটির খোঁজে ৫০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে পাখিটির ছবি দিয়ে লিফলেট ও পোস্টার ছাপিয়েছেন এবং সেগুলো বিতরণ করেছেন। এজন্য তার বেশ অর্থকড়ি খরচ হয়ে গেছে।

পরিবারটি কর্নাটকের তুমাকুরু নগরীতে বাস করে। সেখানকার বেশ কয়েকটি সড়কে পাখির খোঁজে পোস্টার লাগানো হয়। তিন চাকার যান টুক-টুক ভাড়া করে তারা মাইকে পাখির সন্ধান চেয়ে ঘোষণাও দেওয়ান।

তারা যখন এসব করছিলেন, তখন রুস্তোমা তাদের বাড়ি থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরেই ছিল। দুই দিনমজুর শ্রীনিবাস এবং কৃষ্ণমূর্তি পাখিটি দেখাশুনা করছিলেন।

পাখিটি বাড়ি ছাড়ার ঠিক পরদিন কৃষ্ণমূর্তি সেটিকে পান। রাস্তার কুকুর-বেড়ালের পেটে যাওয়া থেকে বাঁচতে সেটি একটি গাছের মগডালে বসেছিল।

কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “গাছের উপরে পাখিটিকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। ক্ষুধা এবং আতঙ্কে সেটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল।”

‘‘আমি ডাকতেই সেটি সাড়া দেয় এবং স্বেচ্ছায় আমার কাছে আসে। আমি পাখিটিকে শ্রীনিবাসের কাছে রেখে আসি। ও পাখিটিকে খাঁচায় রেখে খাবার দিয়েছে।”

চারদিন পর একটি লিফলেট পেয়ে ওই দুইজন শেট্টি পরিবারকে ফোন করেন। শেট্টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর তারা বুঝতে পারেন, ঘোষণায় যা বলা হয়েছে তারা তার চেয়েও বেশি অর্থ পুরস্কার পাবেন।

অর্জুন বলেন, ‘‘আমরা যখন রুস্তোমাকে আনতে যাই তখন সেটি আমাকে দেখে চেনা স্বরে চিৎকার শুরু করে। খুব খুশি হলে সেটি যেভাবে চিৎকার করে ঠিক সেভাবে।”

‘‘পুরো পরিবার রুস্তোমার ফিরে আসাতে আনন্দিত হয়ে উঠে। তবে রিও’র চেয়ে বেশি খুশি বোধ হয় আর কেউ হয়নি।”

রুস্তোমার উড়ে বাইরে চলে যাওয়া শেট্টি পরিবারকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। পাখি দুটি আরও খোলা পরিবেশে ভারতে বা ভারতের বাইরে কোনও চিড়িয়াখানায় থাকতে পারলে বেশি খুশি হবে কি-না তা এখন গভীর মনোযোগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে শেট্টি পরিবার।

অর্জুন বলেন, ‘‘বাবা-মা কী তাদের সন্তানদের জীবনে আরও ভালো করার জন্য বিদেশে পড়তে পাঠায় না? বাচ্চাদের আমাদের সঙ্গেই থাকতে হবে, এমনটা তো নয়।”

‘‘যদি তারা সেখানে বেশি খুশি থাকে তবে তাদের থেকে দূরে থাকতে আমরা প্রস্তুত আছি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক