‘আস্থাহীনতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব মিয়ানমারের শান্তি প্রক্রিয়াকে গলাটিপে ধরেছে’

মিয়ানমারের জান্তা গণতন্ত্রকামী ৪ আন্দোলনকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগে বড় আঘাতও হেনেছে, বলেছেন কম্বোডিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী।

রয়টার্স
Published : 6 August 2022, 02:20 PM
Updated : 6 August 2022, 02:20 PM

আস্থাহীনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব মিয়ানমারের শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই অঞ্চলে আসিয়ানের বিশেষ প্রতিনিধি কম্বোডিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী পার্ক সোখন।

শনিবার তিনি বলেন, আসিয়ান নেতারা মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জেনারেলদের এড়িয়ে চলা অব্যাহত রাখলে, দেশটির বাকি দলগুলোকে আলোচনায় সামিল করতে না পারলে এবং শান্তি আলোচনার পথে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে মিয়ানমারে শান্তি ফেরানো সম্ভব ‍না।

কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেনে এ সপ্তাহে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক সম্মেলনে প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন পার্ক।

বৈঠকে তিনি বলেন, মিয়ানমারে শান্তি ফেরার আশা তিনি ছেড়ে দিতে পারেন না। যদিও দেশটির কোনো পক্ষের মধ্যেই তিনি লড়াই ছেড়ে শান্তির পথে হাঁটার ইচ্ছা দেখতে পাচ্ছে না বলেও জানান।

প্রায় এক দশকের ভঙ্গুর গণতন্ত্রের পর গত বছর দেশটির সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে আবারও সামরিক শাসন ফিরে এসেছে।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সেনাঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটি বিক্ষোভে, সংঘাত এবং লড়াইয়ের ফাঁদে আটকা পড়ে আছে।

পার্ক সুখন বলেন, সম্প্রতি সামরিক জান্তা সরকার দেশটির গণতন্ত্রকামী চার আন্দোলনকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগে বড় আঘাত করেছে।

ভবিষ্যৎ অগ্রগতি না হলে মিয়ানমারের বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে বলেও একমত হয়েছেন আসিয়ান নেতারা।

পার্ক বলেন, ‘‘আমি কোনো পক্ষের মধ্যেই লড়াই বন্ধ করার ইচ্ছার কোনো লক্ষণ দেখতে পাইনি। আমি সেখানে শুধুমাত্র যা দেখতে পাচ্ছি সেটা হলো লড়াই অব্যাহত রাখা। কেন? এর কারণ কী আস্থার অভাব।

‘‘আস্থা না থাকলে লড়াই চলতেই থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াও কখনোই বন্ধ হবে না। কারণ, যদি কারো মধ্যে প্রাণ হারানোর ভয় থাকে তবে কেউই আলোচনা করতে আসবে না।”

অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিক্ষোভকারীদের কঠোর হস্তে দমন করছে জান্তা বাহিনী। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক আঙ্গনে নিন্দার ঝড় উঠলেও সাধারণ বিক্ষোভকারীদের উপর দমনপীড়ন কমছে না।

আসিয়ানের পক্ষ থেকে জান্তা প্রশাসনকে একটি শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। যা না করার পর্যন্ত আসিয়ানের ‍কোনো বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

দেশটির জান্তা সরকার অবশ্য আসিয়ানের পরামর্শ মানার কোনো ইচ্ছা এখন পর্যন্ত দেখায়নি। বরং শুক্রবার রাতে জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা জান্তা শাসনবিরোধী ‘সন্ত্রাসীদের’ সঙ্গে কোনো ধরণের সম্পর্ক রাখা আসিয়ানের সদস্যদের উচিত না।

শান্তি প্রক্রিয়ায় কাজে তারা ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে বলেও ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক