মল্লিকার্জুন খড়গে অথবা শশী থারুর, এই দুজনের মধ্যে একজন হতে যাচ্ছেন উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দলটির নতুন সভাপতি।
Published : 17 Oct 2022, 02:00 PM
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস পার্টি প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম অ-গান্ধী সভাপতি পেতে যাচ্ছে। মল্লিকার্জুন খড়গে অথবা শশী থারুর, এই দুজনের মধ্যে একজন হতে যাচ্ছেন উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দলটির নতুন সভাপতি।
সোমবার অভ্যন্তরীণ এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। তারা জানিয়েছে, খড়গেকে ‘অনুমোদিত’ প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ১৯ অক্টোবর ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।
ভারতজুড়ে কংগ্রেসের প্রাদেশিক কমিটির (পিসিসি) ৯ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি সোনিয়া গান্ধীর ‘উত্তরসূরি’ বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন। দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোট দেবেন তারা।
কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী দিল্লির ‘অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির’ দপ্তরে নিজের ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভদ্রও এ সময় তার মা সোনিয়ার সঙ্গে ছিলেন এবং নিজের ভোট দেন।
ভোট দেওয়ার পর সোনিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “এই বিষয়টির জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।”
কংগ্রেসের ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রায় কর্নাটকে থাকা রাহুল গান্ধীও দলটির বল্লারি শিবিরের কেন্দ্রে তার নিজের ভোটটি দিয়েছেন।
কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচিত করতে নয়া দিল্লিতে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ভোট দিয়েছেন।
এ নির্বাচনে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি বড় অংশ খড়গেকে সমর্থন দিচ্ছেন। তাকে গান্ধী পরিবারের ‘অঘোষিত আনুষ্ঠানিক প্রার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অপরদিকে থারুর নিজেকে পরিবর্তনের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
কংগ্রেস পার্টির প্রায় ১৩৭ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সরাসরি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সভাপতি বেছে নেওয়া হচ্ছে। উভয় প্রার্থীই ভারতজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খড়গে সোনিয়াকে কংগ্রেসের একজন ‘মূল ব্যক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন। গান্ধীদের নির্দেশনা ও পরামর্শ ছাড়া কংগ্রেস কাজ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। নির্বাচিত হলে কংগ্রেসের উদয়পুরের চিন্তন শিবিরে ঘোষিত সাংগঠনিক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খড়গে।
এদিকে প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন থারুর। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিভিন্ন রাজ্য পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকজন পিসিসি প্রধান ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাক্ষাৎ পাননি তিনি, কিন্তু ওই নেতারাই আবার খড়গের পরিদর্শনের সময় তাকে স্বাগত জানিয়ে তার প্রতি সমর্থন জানান
আগের খবর: