Published : 30 Nov 2023, 06:10 PM
এলজিবিটি ও অধিকারকর্মীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে নেপালে সমলিঙ্গের বিয়ে স্বীকৃতি মিলল।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় লুমজাং জেলা কর্তৃপক্ষ বুধবার সমকামী দম্পতি মায়ো গুরুং ও সুরেন্দ্র পান্ডের বিয়ের নিবন্ধন সার্টিফিকেট দিয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
নেপালে ৩৫ বছর বয়সী গুরুংয়ের পরিচয় একজন পুরুষ হলেও মূলত তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। অপরদিকে ২৭ বছরের সুরেন্দ্র পান্ডে ‘সিসজেন্ডার’ বা জন্মগতভাবে পুরুষ। বিয়ের ছয় বছর পর এ নিবন্ধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন তারা।
পাঁচ মাস আগে সমকামী দম্পতিদের বিয়ের অনুমতি দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
বিদ্যমান আইন পরিবর্তন না করা পর্যন্ত সরকারকে সমকামী বিয়ে নিবন্ধনের আদেশ দেয় আদালত। কিন্তু গত ১৩ জুলাই একটি জেলা আদালত তাদের বিয়ে নিবন্ধন করতে অস্বীকার করে।
আদালত যুক্তি দেয়, নিম্ন আদালতগুলো ওই আদেশ মানতে বাধ্য নয়; কারণ সেটি কেবল সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনি লড়াইয়ে অবশেষে বিয়ের নিবন্ধনের পর মায়ো গুরুং বিবিসিকে বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যালঘুদের জন্য এটি একটি বড় দিন।
“অধিকারের জন্য লড়াই সহজ নয়। আমরা এটা করেছি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা সহজ হবে। এই নিবন্ধনটি আমাদের অনেক কিছুর দরজা খুলে দিয়েছে।”
গুরুং ও পান্ডে প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে থাকছেন। ২০১৭ সালে তারা বিয়ে করে আইনগত স্বীকৃতির পথ খুঁজছিলেন।
লুমজাং জেলার দোর্দি পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেম রাজ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ও প্রাসঙ্গিক সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বিবেচনায় ওই দম্পতির বিয়ে নিবন্ধন সার্টিফিকেট দিয়েছি।”
এলজিবিটি অধিকারকর্মী সুনীল বাবু একে ‘ঐতিহাসিক’ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এশিয়ায় নেপালের বাইরে কেবল তাইওয়ানে সমকামীদের বিয়ের অনুমতি রয়েছে। গত অক্টোবরে সমলিঙ্গ সম্পর্কের অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেও সমকামী বিয়ের বৈধতা প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন-