শুল্ক-বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারত সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ভারতের মুম্বাই এবং জামনগর সফর করবেন। চলতি বছরে এটি রুবিওর দ্বিতীয় ভারত সফর। তার এই সফরে উজবেকিস্তানও রয়েছে।
আগামী শনিবার থেকে পাঁচ দিনের ভারত সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি থমকে যাওয়া, মার্কিন শুল্ক নীতি এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বৈঠক করবেন ভারতীয় কর্মকর্তা এবং শিল্পপতিদের সঙ্গে। আলোচনায় জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
সফরকালে রুবিও ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই এবং জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র জামনগর সফর করবেন। তার এই সফরে উজবেকিস্তানও রয়েছে। চলতি বছরে এটি তার দ্বিতীয় সরকারি ভারত সফর।
ভারতে রুবিও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকের উদ্দেশ্য হল, “যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।”
তাছাড়া, বাণিজ্যিক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি বাণিজ্য খাতের বিশিষ্টজনদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফরের সময়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়ে একটি আইন পাস করেছে ওয়াশিংটন, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে নয়াদিল্লি।
ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এই তৎপরতা চালালেও ভারত সাময়িকভাবে তেল আমদানি কিছুটা কমিয়েছিল।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মুখে ভারত সম্প্রতি আবার রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনা শুরু করেছে।
বিশেষ করে জামনগরে অবস্থিত ভারতের বৃহৎ শোধনাগারগুলোতে এই তেলের বড় অংশ প্রক্রিয়াজাত হয়।
এর বাইরে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কেও সম্প্রতি বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা আবারও ভেস্তে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা।
এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিতে নিজে মধ্যস্থতা করেছেন বলে ট্রাম্পের বারবার দাবি এবং ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনা ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কে তিক্ততা বাড়িয়েছে।
এমন এক সময়ে রুবিওর এই সফরের ঘোষণা এল, যখন ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতে ব্যাপক গণবিক্ষোভ চলছে।
তবে চলমান এই রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন। পাঁচ দিনের এই আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে ভারতের পাশাপাশি উজবেকিস্তানের সমরকন্দ সফর করবেন মার্কো রুবিও।
সেখানে তিনি ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন ব্যবসায়িক নেতার একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন এবং মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ- কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তানকে নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন।
