রাজধানীর একটি কফিশপে ঘাতক খুব কাছ থেকে আনাওসা ‘জ্যাক’ লুয়াংসুফোমের মুখমণ্ডল ও বুকে গুলি করে।
Published : 03 May 2023, 05:53 PM
লাওস সরকারের সমালোচক হিসেবে সুপরিচিত এক যুবককে কফিশপে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
গত শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর ওই কফিশপে এক ঘাতক খুব কাছ থেকে আনাওসা ‘জ্যাক’ লুয়াংসুফোমের (২৫) মুখমণ্ডল ও বুকে গুলি করে।
বিবিসি জানায়, তিনি ‘কাব ক্লুয়েন ডুয়ে কি–বোর্ড’ (ড্রিভেন বাই কি–বোর্ড) নামের একটি ফেইসবুক পেজ চালাতেন। এ পেজে তার অনুসারীরা কমিউনিস্ট সরকারের নানা নীতির অকপট সমালোচনা করেন।
লুয়াংসুফোমকে ঠান্ডা-মাথায় এমন নিষ্ঠুরভাবে হত্যার এই ঘটনায় সরকার এখনও কোনও তদন্তের ঘোষণা না দেওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিন্দা জানিয়েছে।
সিসিটিভি ক্যামেরায় এ হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ধরা পড়েছে।ফুটেজে দেখা যায়, মাথায় কালো টুপি ও বাদামি রঙের লম্বা হাতার শার্ট পরা এক বন্দুকধারী ক্যাফেতে ঢুকে লুয়াংসুফোমকে পরপর দুটি গুলি করেছে। এ সময় ক্যাফেতে বসে থাকা লুয়াংসুফোমকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, লাওসে যে কয়জন মানুষ নিয়মিত ও প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করে থাকে, লুয়াংসুফোম তাদের অন্যতম।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলাইন পিয়ারসন বলেন, “হত্যার ঘটনাটি রক্ত হিম করা এই বার্তাই দেয় যে, সরকারের সমালোচনা করে- এমন কেউই লাওসে নিরাপদ নন।”
সরকার সমালোচক একজন অধিকার কর্মী হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার করতে সরকারের ‘স্পষ্ট উদাসীনতার’ নিন্দা জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
সরকার এখনও সমালোচনার কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। লুয়াংসুফোমকে হত্যার খবর স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, সরকারের সমালোচক, মানবাধিবারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় লাওস কর্তৃপক্ষ প্রায়শই যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয় না।
১০ বছরের বেশি সময় আগে গুম হওয়া অধিকার কর্মী সোমবাথ সোমফোন কোথায় আছেন তা আজও অজানা রয়ে গেছে। রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে তাকে পুলিশ কাস্টডিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এইচআরডব্লিউ ব্যাংককে বাস করা লাওসের অধিকারকর্মী ওড সায়াভংয়ের ঘটনাও উল্লেখ করেছে। তিনি ২০১৯ সালের অগাস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
এ দুইজন নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে লাওস সরকার কিছু জানে না বলেই দাবি করেছে। এশিয়ার সবচেয়ে গরিব দেশগুলোর মধ্যে কমিউনিস্টশাসিত দেশ লাওসে বিরোধী রাজনীতিবিদ কিংবা ভিন্নমতাবলম্বীদের কথা বলার সুযোগ খুবই সীমিত।