১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ পাঠাল ভারত

“একটি উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে, কিন্তু এই কয়েক মিনিটের পেছনে থাকে মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম।”

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Sep 2026, 04:51 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ ‘ইওএস-০৫’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।

এনডিটিভি লিখেছে, শুক্রবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে করে উপগ্রহটি পাঠানো হয়। 

উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই উপগ্রহটিকে সফলভাবে নির্দিষ্ট সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। 

ইসরো প্রধান ভি নারায়ণন বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, জিএসএলভি-এফ১৭ যানটি উন্নত প্রযুক্তিক্তির পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ, জিও-ইমেজিং স্যাটেলাইট ইওএস-০৫কে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তার নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে।”

জিএসএলভি-এফ১৫ রকেট মিশনের পরিচালক থমাস কুরিয়ান জানান, জিএসএলভির মাধ্যমে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ এটি। 

তিনি বলেন, “এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের একটি মুহূর্ত। এই সাফল্যের মাধ্যমে জিএসএলভি তার ১৯তম মিশন সম্পন্ন করল, যা প্রায় রিয়েল-টাইমে ছবি তুলে পাঠাতে সক্ষম পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ ইওএস-০৫ বহন করেছে। 

“জিএসএলভি দিয়ে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে পাঠানো এটিই সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। একটি উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে, কিন্তু এই কয়েক মিনিটের পেছনে থাকে মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম।”

এনডিটিভি লিখেছে, পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা ইওএস-০৫ উপগ্রহ ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি সুবিধা দেবে।

আনন্দবাজার লিখেছে, উপগ্রহটি ভারতের সীমানা ও ভূখণ্ডে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে। পাকিস্তান বা চীন সীমান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের উপর ঘন ঘন নজরদারি ও পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, মেঘভাঙা বৃষ্টি বা দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই উপগ্রহটি ভারতের যেকোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ছবি ৫ মিনিটের মধ্যে এবং পুরো ভারতীয় ভূখণ্ডের ছবি প্রতি ৩০ মিনিটে ইসরোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠাতে পারবে। খনিজ অনুসন্ধান ও হিমবাহ পর্যবেক্ষণের কাজেও ব্যবহার করা যাবে এই উপগ্রহকে।

ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং বলেন, ভারতের মহাকাশ সক্ষমতা প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতা ছুঁয়ে চলেছে, বৈশ্বিক মহাকাশ শক্তি হিসেবে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে।

তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন, “ইওএস-০৫ একটি অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ এবং জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ভারতের প্রথম চিত্রধারণকারী স্যাটেলাইট, যা দৃশ্যমান ইনফ্রারেড, মাল্টিস্পেকট্রাল ও হাইপারস্পেকট্রাল ব্যান্ডে উন্নত মানের ছবি ধারণ করতে সক্ষম।”