Published : 28 Jan 2026, 12:27 PM
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের দিকে দুর্গন্ধযুক্ত তরল ছুড়ে মারা একজনকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ।
মঙ্গলবার মিনিয়াপোলিসে এক সভায় মিনেসোটায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী (আইসিই) কর্মকর্তাদের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানোর সময় ওমরের ওপর তরল ছুড়ে মারার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে ওমরের শারীরিক কোনো ক্ষতি হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে এক নিরাপত্তারক্ষী তরল ছুড়ে মারা ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন।
পুলিশ পরে জানায়, তারা ওই ব্যক্তিকে তৃতীয় মাত্রার হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভায় ওমর আইসিই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) মন্ত্রী ক্রিস্টি নোমের কড়া সমালোচনা করছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘিরে নোমের পদত্যাগও দাবি করেন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের এ ডেমোক্র্যাট সদস্য।
“আইসিই-র সংস্কার হবে না, একে পুনর্স্থাপনও করা যাবে না, ভালোর জন্যই একে পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে এবং ডিএইচএস মন্ত্রী ক্রিস্টি নোমকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে, নাহলে অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে,” দর্শকশ্রোতাদের বিপুল করতালির মধ্যে বলেন ওমর।
কিছুক্ষণ পর সামনের সারিতে বসে থাকা এক ব্যক্তি ওমরের দিকে এগিয়ে আসেন এবং তার দিকে তরল ছুড়ে মারেন এবং বলেন, “তোমার পদত্যাগ করা উচিত।”
পুলিশ বলছে, সিরিঞ্জ থেকে ওই তরল ছোড়া হয়েছে।
তরল গায়ে লাগার পরও ওমর হাত ওপরে তুলে ওই ব্যক্তির দিকে কয়েক কদম এগিয়ে যান, তার মধ্যেই নিরাপত্তরক্ষী ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে।
খানিকক্ষণ বিরতির পর ওমর ফের তার বক্তব্য শুরু করেন, তিনি কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিতেও রাজি হননি। বলেন, তার কেবল একটি রুমাল লাগবে। তার কার্যালয় পরে এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন এ আইনপ্রণেতা ‘ঠিক আছেন’।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে ওই তরলের নমুনা সংগ্রহ করেছে বলে মিনিয়াপোলিস পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেছেন, ওমরের দিকে ছোড়া তরলে অ্যামোনিয়ার মতো কিছু একটার গন্ধ পাওয়া গেছে এবং তা গলায় হালকা জ্বালা ধরিয়েছে।
“কখনোই হুমকিতে নত না হওয়ার শিক্ষা আমি খুব অল্প বয়সেই পেয়েছি। আপনি তার মুখোমুখি হবেন এবং দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবেন,” অনুষ্ঠান বাতিলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দর্শকদের বলেন ওমর।
ডেমোক্র্যাট এ আইনপ্রণেতা নিয়মিতই ট্রাম্পের কটাক্ষের শিকার হয়ে আসছেন। প্রকাশ্যে মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে প্রায়ই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ওমরের সোমালিয়ান সংযোগের কথা এনে তাকে বারবার আক্রমণও করেন তিনি।
“ইলহান ওমর আবর্জনা। সে আবর্জনা, তার বন্ধুরাও আবর্জনা,” ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার এক বৈঠক চলাকালে বলেছিলেন ট্রাম্প।
৪৩ বছর বয়সী ওমর ১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তিনি ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিক হন।