১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুমোদন দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা ইস্তাম্বুলে নতুন করে আলোচনায় বসতে চলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুমোদন দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2026, 02:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:51 PM

পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। 

মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান লিখেছেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত যতক্ষণ ‘হুমকি এবং অযৌক্তিক প্রত্যাশা’ এড়ানো যাচ্ছে। 

সোমবার ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আসছে শুক্রবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা ইস্তাম্বুলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসতে চলেছেন।

নিজের পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আলোচনার পরামর্শে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর দাবিকে আমলে নিয়ে আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ন্যায়সঙ্গত ও অবাধ আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছি। আলোচনার পরিবেশ হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশামুক্ত হওয়া উচিত।”    

আঞ্চলিক এক কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে সৌদি আরব ও মিশরের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ চলছে। এই বিরোধ নিরসনে নেওয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আর নতুন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করতে বৈঠকটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইস্তাম্বুলের এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বৈঠকে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরসহ আরও কিছু দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বৈঠক হতে চলেছে। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের পর দেশটির উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করার ফলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভ চলার সময় দেশটিতে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েও পরে তা বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থেকেছেন। তবে ইরানে আপাতত হস্তক্ষেপ না করলেও তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিকে পৌঁছার জন্য তিনি ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। 

দ্রুতই চুক্তি না করলে ইরানে আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।”