Published : 07 Dec 2025, 01:27 AM
পাকিস্তান সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ীদের সীমিত সময়ের জন্য ক্ষমা করার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
স্থানীয় ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে ঝুঁকি ও উদ্বেগ জানানোর মধ্যে এমন উদ্যোগ সামনে আসে।
পাকিস্তানে বছরে ২৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো লেনদেন করেন বলে ধারণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ প্রস্তাব ওঠে। সেখানে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর একটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভার্চুয়াল সম্পদ দেশের জিডিপি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পাকিস্তান ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটির (পিভারা) চেয়ারম্যান বিলাল বিন সাকিব, স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের গভর্নর এবং দেশের প্রধান ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা। পাশাপাশি ছিলেন বাইন্যান্সের গ্লোবাল সিইও রিচার্ড টেংসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাইন্যান্স প্রতিনিধিরা জানান, ভার্চুয়াল সম্পদকে দেশের তরল অর্থ সরবরাহের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা গেলে তরল মুদ্রা বাড়বে।
সভায় সার্বভৌম ঋণকে টোকেনাইজ করে তারল্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রবেশাধিকার বিস্তৃত করা এবং ব্লকচেইনভিত্তিক বিধিবদ্ধ আর্থিক উপকরণে পাকিস্তানকে আঞ্চলিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, বৈঠকে কর কাঠামো ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার খসড়া নীতিও আলোচনা হয়, যার মধ্যে ছিল লাইসেন্সধারী এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর তদারকির মূল দায়িত্ব দেওয়া, ধাপে ধাপে মূলধনী মুনাফার কর নির্ধারণ এবং ব্যবহারকারীদের নিয়মিত প্ল্যাটফর্মে সম্পদ স্থানান্তরে উৎসাহ দিতে সীমিত সময়ের ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) বিবেচনা করা।
কতজন পাকিস্তানি বাইন্যান্স ব্যবহার করেন?
পাকিস্তানী সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ পাকিস্তানি বাইন্যান্সে নিবন্ধিত ট্রেডার, যার মধ্যে ৪০ লাখ সক্রিয়। শুধু বাইন্যান্সেই তারা প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের ভার্চুয়াল সম্পদ ধরে রেখেছেন। আর তাদের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলার।
তবে, এ সংখ্যার মধ্যে অন্য ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলোতে থাকা পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা নেই বলেও জানিয়েছে ডন।
বাইন্যান্সের কর্মকর্তাদের দাবি, এসব সম্পদ ব্যাংককে দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য জামানত হিসেবে দেখাতে পারলে ঋণ খেলাপির ঝুঁকি কমবে। এপিআইভিত্তিক ডেটার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ব্যবহারকারীর ঋণদায় যাচাই করতে পারবে।
ব্যাংকগুলোর উদ্বেগ
স্থানীয় ব্যাংকগুলো মানি লন্ডারিং, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কিছু প্রশ্ন তোলে।
তাদের বলা হয়, বাইন্যান্স ব্যবহারকারীদের সম্পদ ও লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে ট্র্যাক করতে পারে, যা ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
স্টেট ব্যাংকের অংশগ্রহণে পাকিস্তানি ব্যাংকগুলো বাইন্যান্সের স্বীকৃত ডলারের সম্পদ ধরে রাখতে পারবে, যা দেশের মোট আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারে বলেও জানানো হয় বৈঠকে।
বৈঠকে পাকিস্তানের ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো আধুনিকায়ন, অন-অফ-র্যাম্প ব্যবস্থার নিরাপদ প্রয়োগ, উচ্চ মানের কমপ্লায়েন্স এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান একটি আধুনিক, নিরাপদ ও উদ্ভাবন-বান্ধব ডিজিটাল আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ এবং দেশীয় ব্যাংকগুলোর সমন্বয় অপরিহার্য।