১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প: মার্কিন কর্মকর্তা

এতে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো, মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়া সংঘাতটির সমাধানের আশা অনেকটা মিইয়ে গেছে।

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প: মার্কিন কর্মকর্তা
তেহরানের একটি বিলবোর্ডে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের দৃঢ়মুষ্ঠির একটি প্রতীকি চিত্র দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Apr 2026, 11:03 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:30 PM

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ইরান সর্বশেষ যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট নন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। 

এতে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো, মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়া ও কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু ডেকে আনা সংঘাতটির সমাধানের আশা মিইয়ে গেছে। 

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা তুলে রেখে পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজ চলাচলের অচলাবস্থা নিরসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।  

রয়টার্স লিখেছে, এসব প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সন্তুষ্ট না হওয়ারই কথা, কারণ যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীর ওপরই মূল জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন। আর এ কারণেই ইরানের এ প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা।   

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও ‘(কোনো প্রস্তাব) গণমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা করবে না’ আর ‘আমাদের রেড লাইনগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে’।

জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় দেশের ভেতর থেকেই যুদ্ধ শেষ করার চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। জনসাধারণকে যুদ্ধের কারণ হিসেবে যা যা বলেছিলেন তা বারবার পরিবর্তন করেছেন তিনি।  

রাশিয়া সফরকালে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায় ট্রাম্প আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।  

পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শনি ও রোববার আরাকচির পক্ষ থেকে ইসলামাবাদের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে ধাপে ধাপে আলোচনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যার শুরুতে পারমাণবিক বিষয়টি একপাশে সরিয়ে রাখা হবে। শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে আর তারা আবার তা শুরু করবে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

এরপর আলোচকরা ইরানের বাণিজ্যের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ আর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন যা ইরান নিজের নিয়ন্ত্রণের অধীনে ফের চালু করতে চায়।   

এসব ধাপ পার হওয়ার পর ইরান অন্য সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করবে। যেগুলোর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

আরও পড়ুন: 

যুদ্ধের কোনও লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র অর্জন করতে পারেনিআরও আলোচনা