১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টাটা সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী কে হচ্ছেন

রতন টাটার অনুপস্থিতিতে টাটা সাম্রাজ্যে শূন্যতা বিশাল। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিয়ে করেননি। ফলে সেই শূন্যস্থান নিয়ে এখন চলছে নানা জল্পনা।

টাটা সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী কে হচ্ছেন
রতন টাটা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Oct 2024, 12:51 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:20 PM

ভারতীয় ধনকুবের রতন টাটার প্রয়াণে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্ন এখন সামনে আসছে, সেটি হল ৩০ লাখ কোটি রুপি মূল্যমানের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উত্তরসূরী কে হচ্ছেন।

রতন টাটার অনুপস্থিতিতে টাটা সাম্রাজ্যে শূন্যতা বিশাল। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিয়ে করেননি। ফলে সেই শূন্যস্থান নিয়ে এখন চলছে নানা জল্পনা।

ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, বর্তমানে টাটা গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এন চন্দ্রশেখরণ। ২০১৭ সাল থেকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে চন্দ্রশেখরণ টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) এর প্রধান নির্বাহী-সিইও ছিলেন। তখন তিনি টিসিএসের বৈশ্বিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার শান্ত স্বভাব আর দক্ষ ব্যবস্থাপনা শৈলীর কারণে এরই মধ্যে তিনি প্রশংসা পেয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির শীর্ষ স্থানে তাকে ‘পোক্ত শক্তি’ হিসেবে দেখেন অনেকে।

যাই হোক চন্দ্রশেখরণ নেতৃত্ব দিলেও টাটা সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে, যাদের নিয়ে চলছে আলোচনা।

নোয়েল টাটা

রতন টাটার বাবা নাভাল টাটা দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। সেই ঘরে তার এক ভাই রয়েছে, নাম নোয়েল টাটা।

ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, উত্তরসূরির দৌড়ে রতন টাটার সৎভাই নোয়েলকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে টাটা গ্রুপের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। তাতে উত্তরসূরির তালিকায় নোয়েল টাটাকে শক্ত অবস্থানেই দেখা যাচ্ছে।

গ্রুপের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ পদও ধরে আছেন নোয়েল। টাটার খুচরা ব্যবসা কোম্পানি ‘ট্রেন্ট’ এর সঙ্গে যুক্ত তিনি। এ কোম্পানির উদ্যোগকে সফল করতে তার ভূমিকা রয়েছে। 

ইন্ডিয়া টুডের মতে, ফলে ব্যবসার সঙ্গে নোয়েল টাটার অভিজ্ঞতা আর পরিচিত তাকে টাটা গ্রুপের ভবিষৎ নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প করে তুলেছে।

লিয়া, মায়া ও নেভিল টাটা

টাটা গ্রুপের উত্তরসূরি হিসেবে নোয়েল টাটার তিন সন্তানের নামও সামনে আসছে।

তিন সন্তানের মধ্যে বড় লিয়া টাটা মাদ্রিদের আইই বিজনেস স্কুল থেকে মার্কেটিংয়ের স্নাতকোত্তর। তিনি টাটা গ্রুপে যোগ দেন ২০০৬ সালে। বর্তমানে তিনি গ্রুপের দ্য ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ব্যবসার সঙ্গে দ্রুত নিজের নাম যুক্ত করে এগিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন-

ভারতের 'দরদিশিল্পপতি রতন টাটার জীবনাবসান

ইন্ডিয়া টুড বলছে, নোয়েল টাটার দ্বিতীয় সন্তান মায়া টাটা ‘টাটা ক্যাপিটলে’ নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। সেখানে তিনি একজন ‘বিজনেস অ্যানালিস্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। ধীরে ধীরে ব্যবসায় তার পদচারণা বাড়ছে। ভবিষ্যতে বড় ভূমিকায় আসবেন বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আরেকজন নেভিল টাটা নোয়েল টাটার ছোট সন্তান। টাটার খুচরা ব্যবসা কোম্পানি ‘ট্রেন্ট’ এ ক্যারিয়ার শুরু করেছেন তিনি। গ্রুপের খুচরা ব্যবসা খাতে গভীর সম্পর্ককে তার ভবিষ্যতের রূপরেখা হিসেবে কাছ থেকেই পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকরা।

রতন টাটা ১৯৯১ সালে টাটা সন্সের দায়িত্ব নেন। তার সময়ে টাটা গ্রুপ বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হয়। রতন টাটার নেতৃত্বেই টিসিএস জনগণের কাছে পৌঁছে যায়। আর টাটা মটরস বিলাসবহুল গাড়ির ব্র্যান্ড জাগুয়ার ও ল্যান্ড রোভার অধিগ্রহণের মত কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছিল। টাটা গ্রুপের নৈতিক ব্যবসার মানকে সামনের দিকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

রতন টাটা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১২ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাওয়ার পরও তিনি চেয়ারম্যান এমেরিটাস হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। টাটা সন্সকে দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানের কাজ করছিলেন তিনি।

ব্যবসা সম্প্রাসারণের পাশাপাশি অসংখ্য জনহিতৈষী কাজ ও উদ্যোগ নেন রতন টাটা। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় তার অবদান ব্যাপক সম্মান এনে দেয়।

কর্মময় গরিমা, জীবনঘনিষ্ঠ অঢেল অর্থকড়ির গৌরব আর জনবিশ্বে সম্মানের উঁচু তখতে অবস্থান করা এই শিল্পপতির জীবনাবসান হয়েছে বুধবার রাতে।

মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

দ্য হিন্দুর খবর অনুযায়ী, নিজের আয়ের ৬৫ শতাংশ মানুষের কল্যাণে দান করে যাওয়া রতন টাটার মৃত্যুতে ভারতে শোকের ছায়া নামে। দেশটির রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী ও শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের শীর্ষ স্থানীয়রা শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন।

লবণ থেকে শুরু করে ইস্পাত আর তথ্য প্রযুক্তি খাত পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে টাটা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারে নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘দরদি’ শিল্পপতি রতন টাটা; পেয়েছেন ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব পদ্ম বিভূষণ।