৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ইউক্রেইনের কাছে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের এই চুক্তিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি মার্কিন ডলার।

ইউক্রেইনের কাছে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 10:50 AM

Updated : 31 Oct 2026, 10:50 AM

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেইনের কাছে ৫০০ অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পৌঁছাতে ‘কয়েক বছর’ লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের এই চুক্তিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি মার্কিন ডলার।

এই সমরাস্ত্র কেনার পুরো অর্থায়ন করবে কিইভের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডা। এতে ওয়াশিংটনের কোনো অর্থ খরচ হবে না।

বিবিসি লিখেছে, রাশিয়ার বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম একমাত্র কার্যকর সমরাস্ত্র প্যাট্রিয়ট।

শুক্রবার রাতে জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুদ থেকে দ্রুত এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের তাগিদ দেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ইউরোপে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইউক্রেইন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অংশীদার।

“এই সমরাস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে কিইভের প্রতিরক্ষা যেমন জোরদার হবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘ইউক্রেইন সাপোর্ট লোন’ এবং ‘জাম্পস্টার্ট’ কর্মসূচির অধীনে কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদান এবং জাতীয় তহবিল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের দাম পরিশোধ করবে কিইভ।

এই সমরাস্ত্র সরবরাহের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জেলেনস্কি জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র পেতে ইউক্রেইনকে প্রায় এক মাস মার্কিন অনুমোদনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়েছে; অথচ তাদের নিজস্ব মজুদ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বলেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেইনের জরুরি ভিত্তিতে প্যাট্রিয়ট দরকার।

আসন্ন শীতের আগে ইউক্রেইনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে মস্কো আক্রমণ জোরদার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ৩০টির বেশি রুশ হামলা চালানো হয়েছে।

কিইভের এই ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত প্রয়োজন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক মজুদ থেকে এগুলো দেওয়া হচ্ছে না। কারখানা থেকে নতুন করে তৈরি করে তবেই সরবরাহ করা হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট তৈরির প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ এবং বছরে ৬০০টির মত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা যায়।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া সংকট।

ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিইভের হাতে এই চালান পৌঁছানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত জুলাইয়ে ইউক্রেইনের মাটিতেই প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

তবে তিন সপ্তাহ পরেই বেঁকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প; তখন তিনি বলেন, এমন কোনো অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়নি।

জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির এই অনুমোদন এল।

চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করার চুক্তির অংশ হিসেবে মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র।

সে সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করতে ইউক্রেইনের এখন নতুন নেতৃত্ব দরকার।

২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের একাংশ দখলের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া।

ট্রাম্পের নেতৃত্ব বদলের মন্তব্যের পর গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। সেই বৈঠকের পরই মূলত দুই পক্ষের টানাপড়েন কিছুটা স্তিমিত হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সভাপতিত্বে আয়োজিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা।

ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে লাভরভের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যৌথ ছবি তোলার পর্ব বয়কট করেন তারা।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সম্মেলনে সরাসরি লাভরভকে উদ্দেশ করে বলেন, “এই যুদ্ধে আসল আগ্রাসী কে, তা আমরা সবাই জানি।”