Published : 19 Aug 2026, 11:24 PM
গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে বহনকারী গাড়িতে সেনারা গুলি চালিয়েছিল বলে প্রথম স্বীকার করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
একইসঙ্গে হিন্দ রজবের মৃত্যুর ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্তও শুরু করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
২০২৪ সালের জানুয়ারিমাসে গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে করে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিবর্ষণের মুখে পড়া একটি পরিবারের সাত সদস্যের একজন ছিল এই শিশুটি।
হামলায় প্রাথমিকভাবে বেঁচে গিয়েছিল সে। একটি ফোনকলে চেয়েছিল সাহায্যও। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পাঠানো একটি অ্যাম্বুলেন্সে পরে গোলা হামলা চালানো হয়।
হামলায় দুজন চিকিৎসাকর্মী নিহত হন। কয়েক দিন পর নিহত অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে হিন্দ রজবের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হিন্দ রজব ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা এবং ২০২৫ সালের মার্চে কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীসহ একজন জাতিসংঘ কর্মী এবং ১৫ জন ফিলিস্তিনি হত্যার বিষয়টি নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করবে।
দুইটি হত্যার ঘটনাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।
হিন্দ রজবের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইডিএফ বলেছে, “ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট অ্যাম্বুলেন্সের চলাফেরায় সমন্বয়ে ব্যর্থতার অভিযোগের কারণে ঘটনাটির বিষয়ে সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মাধ্যমে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
আইডিএফ আরও বলেছে যে, তারা ঘটনা খতিয়ে দেখে ইঙ্গিত পেয়েছে যে, সেনারা এমন একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল, যা এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে আইডিএফ মুখপাত্রের একটি ঘোষণায় দেওয়া অগ্রিম বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে চলাচল করছিল।
এর আগে অবশ্য হিন্দ রজব হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ।
ঘটনার কয়েক মাস পর এক প্রাথমিক তদন্তে তারা দাবি করেছিল যে, গাড়িটির কাছে বা সেটিতে গুলি চালানোর মতো দূরত্বে তাদের কোনও সেনা উপস্থিত ছিল না।
তবে শিগগিরই এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আইডিএফ পরে জানায় যে, তারা গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে হিন্দ রজব ওই সময় অবস্থান করছিল।
হিন্দ রজবের দেহ উদ্ধারের সময় চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে তার ফোনালাপের রেকর্ডিং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। তার কণ্ঠে উদ্ধারের আকুতি বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তখন হিন্দ রজবসহ গাজায় নিহত হাজারো শিশুর মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলের জবাবদিহির দাবিও জোরালো হয়।
রেড ক্রিসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসরায়েলি বাহিনী রজব নামের শিশুটিকে উদ্ধার করতে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য পূর্ব সমন্বয় থাকার পরও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংস্থার কর্মীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে।”
হিন্দ রাজাবের ঘটনা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ অস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে।