Published : 17 Aug 2025, 01:54 PM
গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও পদযাত্রা করেছে হাজারো মানুষ।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু লিখেছে, শনিবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
তারা ফিলিস্তিনি পতাকা বহন করেন, সেই সঙ্গে ইসরায়েলের হাতে নিহত আল জাজিরার সাংবাদিকদের ছবি প্রদর্শন করেন। প্রতিবাদকারীরা কালো পোশাক পরে নিহত সাংবাদিকের প্রতীকী কফিন বহন করেন।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ ও মোহাম্মদ কুরেইকেহ, তিনজন ক্যামেরা অপারেটর এবং একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ইসরায়েলি হামলায় আল-শিফা হাসপাতালের কাছে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে নিহত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের হাতে প্রাণ যাওয়া সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৮ জনে।
সহকর্মীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মী পদযাত্রা করেছেন।
আইরিশ সংবাদমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে, ডাক্তার, নার্স ও সহযোগী স্বাস্থ্যকর্মীরা স্টিফেন্স গ্রিনে অবস্থিত রয়্যাল কলেজ অফ সার্জনস (আরসিএসআই) থেকে একটি মিছিল বের করেন। তাদের মিছিলটি গ্রাফটন স্ট্রিট এবং ড্রুরি স্ট্রিট প্রদক্ষিণ করে।
তারা ফিলিস্তিনি পতাকা ও গাজায় নিহত স্বাস্থ্যকর্মীদের ছবি সম্বলিত সাইনবোর্ড বহন করে ড্রামের শব্দের সঙ্গে নীরবে হেঁটে যান।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের গ্লাসগো গ্রিন থেকে সিটি সেন্টার পর্যন্ত মানুষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাস্তায় নামেন।
স্কটল্যান্ডের হাউজিং সেক্রেটারি মাইরি ম্যাকআলান বিক্ষোভে অংশ নেন। তার হাতে ছিল ‘ফিলিস্তিনের জন্য এখনই শান্তি’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
তিনি ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “এই নৃশংসতা বন্ধ হতেই হবে! আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে এবং চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। যুদ্ধাপরাধ শাস্তিহীন হতে পারে না।”
পূর্ব ইংল্যান্ডের নরউইচে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’এর পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, “আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের পক্ষে।”
গত শনিবার লন্ডনে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে স্লোগান বা প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগ আনা হয়।
আরেকটি বিক্ষোভ হয় ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ারে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ রয়্যাল এয়ার ফোর্স হাই উইকোম্ব ঘাঁটি ঘিরে ফেলে এবং গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় যুক্তরাজ্যের সামরিক সহযোগিতা বন্ধের দাবি জানান।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন এক্স পোস্টে লিখেছে, “ব্রিটিশ সরকার এই যুদ্ধ চালু রাখতে দিচ্ছে, এটা লজ্জার! এখনই ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন।”
যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নির্মম যুদ্ধ চালিয়ে আসছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছে ৬১,৯০০ ফিলিস্তিনি।
গত নভেম্বরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে একটি মামলা চলছে।