তবে কী ইউক্রেইনের শস্য রপ্তানি চুক্তি ভেস্তে দিতে চাইছে রাশিয়া?

রাশিয়ার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনিবার ওদেসা বন্দরে আঘাত হেনেছে। আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 July 2022, 02:42 PM
Updated : 23 July 2022, 02:42 PM

ইউক্রেইন থেকে শস্য রপ্তানির সুযোগ করে দিতে একটি চুক্তি সই করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্র বন্দর ওদেসাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

ইউক্রেইনের সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে ‘রাশিয়ার ছোড়া দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র ওদেসা বন্দরে আঘাত হানে’।

ইউক্রেইনের বিমানবাহিনীর প্রধান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বন্দরে শস্য রাখার গুদামগুলোকে ইচ্ছা করে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

শুক্রবার কিইভ-মস্কো যে চুক্তি সই করে সেখানে শস্যের চালান পাঠানোর কাজ যখন চলবে তখন বন্দরে হামলা ‍না চালানোর বিষয়ে রাশিয়া রাজি হয়।

রাশিয়া এবং ইউক্রেইনের সঙ্গে তুরস্ক ও জাতিসংঘ ওই চুক্তিতে সই করেছে।

অথচ চুক্তি সইয়ের পর ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই ওদেসা বন্দর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলো।

Also Read: বন্দর সচলে ইউক্রেইন-রাশিয়া চুক্তি, শস্য রপ্তানি শুরু শিগগিরই

ইউক্রেইনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা একটি পোস্টে বলা হয়, দুইটি কালিবর ক্ষেপণাস্ত্র ওদেসা বন্দরে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো দুইটি ক্ষেপণাস্ত্রকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বন্দরে আগুন ধরে যায় বলে টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান স্থানীয় একজন এমপি।

হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে না জানা যায়নি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়া প্রথমেই কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেইনের বন্দরগুলোর দখল নিয়ে নেয়। ফলে সমুদ্রপথে ইউক্রেইনের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্বের শীর্ষ শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি ইউক্রেইন। যুদ্ধের কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির গুদামগুলোতে লাখ লাখ টন গমসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য আটকা পড়ে আছে। বিশ্বজুড়ে তার চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যোগানের অভাবে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে বেড়ে যায় খাদ্যপণ্যের দাম।

এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ থেকে রাশিয়াকে বারবার ইউক্রেইন থেকে খাদ্যশস্য বের করে আনতে নিরাপদ ‘করিডর’ তৈরি করে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কয়েক মাসের দেনদরার শেষে তুরস্কের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ইস্তাম্বুলে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।

ওই দিন জাতিসংঘের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শস্য রপ্তানি শুরু হয়ে গেলে মাসে ৫০ লাখ টন চালান যাবে, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ে যেমনটি হত।’’

কিন্তু চুক্তি সইয়ের পরদিনই ওদেসা বন্দরে রাশিয়ার হামলা চুক্তি বাস্তবায়নকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

রাশিয়া কী তবে চুক্তি ভেস্তে দিতে চাইছে?

ওদেসা বন্দরে রাশিয়ার হামলা কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে কী রাশিয়া শস্য রপ্তানি চুক্তি ভেস্তে দিতে চাইছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ওদেসা বন্দরই ছিল? তারা এরমাধ্যমে কী বার্তা দিতে চাইছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একমাত্র রাশিয়াই দিতে পারে।

শুক্রবার চুক্তি সইয়ের পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, চুক্তিতে রাশিয়ার দায়িত্ব স্পষ্ট করেই বলা আছে।

ইস্তাম্বুলে রাশিয়া যে চুক্তিতে সই করেছে সেটিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে তা এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। তবে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেছেন, সেটি ইউক্রেইনের সই করা চুক্তির অনুরূপ।

তারা বলেন, সব পক্ষ শস্য রপ্তানি কাজে নিয়োজিত বণিজ্যিক জাহাজ এবং এই উদ্যোগের জন্য বন্দরের যেসব অংশ বা যেসব সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে সেগুলোকে লক্ষ্য করে কোনো পক্ষ কোনো ধরণের আক্রমণ চালাবে না।”

যদি রাশিয়া তাদের কথা না রাখে তবে জাতিসংঘ কী করবে বিবিসির এমন পশ্নের জাবাবে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস বলেন, ‘‘জাতিসংঘের হাতে এমন কিছু নেই (যেটার মাধ্যমে রাশিয়াকে চুক্তি মানতে বাধ্য করা যেতে পারে)। তবে আমার মনে হয়, যদি রাশিয়া এমনটা করে তবে সেটা নিশ্চিতভাবেই অগ্রহণযোগ্য কেলেঙ্কারি হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক