Published : 26 Aug 2026, 10:43 PM
নেপালের তিব্বত সীমান্তের এক অঞ্চলে বড় ধরনের হড়পা বানে বেশ কয়েকটি গ্রাম ও অবকাঠামো প্রকল্প ভেসে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সতর্কতা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার স্থানীয় সময় সকালে চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে হঠাৎ বড় ধরনের একটি হড়পা বান ভোটে কোশি নদীতে প্রবেশ করে। এতে নেপালের বাগমতি প্রদেশের সীমান্তবর্তী পার্বত্য রসুয়া জেলার একাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নেপালি গণমাধ্যম হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ একই প্রদেশেরে উজানে চিতওয়ান জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর মুগলিন পর্যন্ত উচ্চ সতর্কতা জারি করে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের উচুঁ এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হড়পা বানে রসুয়ার তিমুর ও স্যাব্রুবেসি গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিমুরের কাস্টমস দপ্তর এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে জানায়, তিব্বতের দিক থেকে ভোটে কোশি নদী দিয়ে একটি বড় ধরনের হড়পা বান প্রবেশ করেছে বলে তারা খবর পেয়েছে।
রসুয়ার জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পেরিয়ার রয়টার্সকে বলেন, “কয়েকটি গ্রাম ও অবকাঠামো প্রকল্প এলাকাগুলো ভেসে গেছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।”
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা সম্পদহানির কোনো হিসাব পাননি তিনি।
তিনি বলেন, “বহু প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু আমি এখন নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে উদ্ধার ও ত্রাণ দলের পাশাপাশি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও পাঠানো হয়েছে।
সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, “নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সাবধান ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ভোতে কোশি নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। এটি নেপালের প্রবেশ করে এগিয়ে যাওয়ার পর একপর্যায়ে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। এরপর গণ্ডক নদী নাম নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে শেষ পর্যায়ে গঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়েছে।
গত বছর এই ভোতে কোশি নদীতে দেখা দেওয়া বন্যায় নয়জনের মৃত্যু ও ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। ওই সময় হড়কা বানে নেপাল ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ ভেঙে ভেসে গিয়েছিল। এতে দুই দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগা ও বাণিজ্য বেশ কয়েক মাস বিঘ্নিত হয়েছিল।