১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থী ভিসায় প্রতারণা, নাটকীয়ভাবে বেড়েছে আবেদন বাতিলের হার

গত তিন মাসে নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশ থেকে জমা পড়া আবেদনের ৭০ শতাংশ এবং ভারত থেকে জমা পড়া আবেদনের ৩৯ শতাংশ প্রত্যাখ্যান করেছে, যা স্বাভাবিক হারের প্রায় দ্বিগুণ।

শিক্ষার্থী ভিসায় প্রতারণা, নাটকীয়ভাবে বেড়েছে আবেদন বাতিলের হার

ছবি: আরএনজেড

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 09:52 PM

Updated : 15 Oct 2026, 09:52 PM

জাল শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত তিন মাসে নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশ থেকে জমা পড়া আবেদনের ৭০ শতাংশ এবং ভারত থেকে জমা পড়া আবেদনের ৩৯ শতাংশ প্রত্যাখ্যান করেছে, যা স্বাভাবিক হারের প্রায় দ্বিগুণ।

ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারে এই বৃদ্ধির ফলে জুলাই, অগাস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে সব দেশ মিলিয়ে পূর্ণ-ফি দেওয়া শিক্ষার্থীদের ৬,২৭৩টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের গোটা ১২ মাসে মোট প্রত্যাখ্যান হওয়া ৭,৫০৩টি আবেদনের কাছাকাছি।

তাছাড়া, সব দেশ থেকে আসা পূর্ণ-ফি দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ৩৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা ২০২৫-২৬ সালে ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ। ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড গণমাধ্যম আরএনজেড- কে জানিয়েছে, মাস্টার্স ডিগ্রিতে অধ্যয়নের আবেদনের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া এই বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু অভিবাসন কর্মকর্তারা আরএনজেড-কে বলেছেন, এই সমস্যার পেছনে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষা এজেন্টদের কর্মকাণ্ড, যারা বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য সাব-এজেন্ট ব্যবহার করছে।

নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম আরএনজেড-কে বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের কিছু কিছু শিক্ষার্থী ভিসা এজেন্ট নিজেরা কাজ না করে ছোট ছোট সাব-এজেন্ট দিয়ে গাদা গাদা ফাইল জমা দেওয়াচ্ছেন। এ কারণেই মূল সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

ভারতের জন্য প্রত্যাখ্যানের হার আগেও বেড়েছিল। সর্বসম্প্রতি ২০২৪ সালে এবং ২০১৬ সালের কাছাকাছি সময়েও এমন হয়েছিল, যখন সাব-এজেন্ট এবং জাল নথিপত্রের ব্যবহার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নিউজিল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষাসংক্রান্ত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘এইমস গ্লোবাল’ এর প্রধান নির্বাহী অরুণিমা ধিংড়া বলেছেন, তিনি গত সপ্তাহে ভারতে ছিলেন, যেখানে অভিবাসন কর্মীরা তাকে জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ দেখাতে ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করা এজেন্টের সংখ্যা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, “অভিবাসন বিভাগ যা বলছে তা হল, বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তারা লক্ষ্য করেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু এজেন্টের মাধ্যমে শত শত জাল বা ভুয়া নথিপত্র জমা পড়েছে।

“নথিপত্রগুলো বারবার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। এজেন্টরা একই নথি ব্যবহার করে কেবল বিভিন্ন শিক্ষার্থীর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে। তার মানে, বাস্তবে এই অর্থের কোনও অস্তিত্বই ছিল না এবং এর পেছনে অর্থ লগ্নিকারী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলে বড় ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণা করা হয়েছে।”

এর ফলেই কঠোর পদক্ষেপ বা দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হতে হয়েছে, তবে এটি খুবই নির্মম উল্লেখ করে ধিংড়া বলেন, “যখন আবেদনের পরিমাণ বাড়ে এবং ঝুঁকি বাড়ে, তখন সব কর্মকর্তাকে খুব সতর্ক থাকতে বলা হয়। কারণ, এই বাজারে ঝুঁকি রয়েছে।

“এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা নিয়মকানুন অনেক বেশি কঠোর করে ফেলেন। আর এর কারণে কিছু প্রকৃত বা আসল শিক্ষার্থীও কোনও দোষ না থাকার পরও অন্যায়ভাবে ভুক্তভোগী হয় বা বাদ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

নিউজিল্যান্ডের সুনামের জন্য বাংলাদেশ বা ভারতের শিক্ষার্থীদের উচ্চহারে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ভাল নয় বলে উল্লেখ করেন ধিংড়া। কারণ, তিনি বলেন, “যারা সত্যিই নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করতে চায়, তাদের কাছে এই ভিসা প্রত্যাখ্যান এক ভুল বার্তা দেয় এবং এতে নিউজিল্যান্ডের সুনাম নষ্ট হয়।"