মস্কোয় সমাহিত অ্যালেক্সি নাভালনি

শবযানে করে নাভালনির মরদেহ রাজধানী মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে চার্চের বাইরে পৌঁছলে সেখানেই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 March 2024, 12:15 PM
Updated : 1 March 2024, 12:15 PM

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনিকে মস্কোর উপকণ্ঠে বোরিসোভস্কয়ে সমাধিতে সমাহিত করা হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রেপ্তারির ভয় উপেক্ষা করে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমাধিস্থলে সমবেত হয়েছে। তবে শোকার্ত এই মানুষদেরকে সেখানে থাকতে দেওয়া হবে নাকি চলে যেতে বাধ্য করা হবে তা স্পষ্ট নয়।

শুক্রবার শবযানে করে নাভালনির মরদেহ প্রথমে রাজধানী মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে চার্চের বাইরে নিয়েযাওয়া হয়। এরপর সেখানেই অন্তষ্ট্যিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নাভালনির সহযোগীর টেলিগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে কয়েকজন মানুষকে লাশ কফিনে করে চার্চে বহন করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

নগরীতে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। মাস্ক পরা গার্ডও মোতায়েন করা হয় চার্চের বেষ্টনি ঘিরে।

নাভালনিকে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি আছে জেনেও সেখানে সমবেত হয় শোকার্ত মানুষেরা। তবে কেউ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি গন্যমাণ্য ব্যক্তিরাও অনেককেই চার্চে যান। শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছেন নাভালনির বাবা-মাও।

তবে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া এবং তাদের দুই সন্তান সম্প্রতি বিদেশে থাকছেন। তারা ক্রেমলিনের দমনপীড়নের আশঙ্কায় রাশিয়ায় ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে স্বামীর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ইন্সটাগ্রামে বার্তা দিয়েছেন ইউলিয়া। লিখেছেন, “জানিনা তোমাকে ছাড়া কীভাবে থাকব। তবে আমি চেষ্টা করব। একদিন নিশ্চয়ই আমাদের দেখা হবে।” নাভালনির স্মরণে ইউলিয়া তাদের কিছু ছবিও পোস্ট করেন।

মস্কোর চার্চে নাভালনির অন্ত্যষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কফিনে করে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় সমাধিস্থলে। চার্চের ঘণ্টাধ্বনি বাজার পর নাভালনির লাশ আবার শবযানে তুলে নিয়ে সমাধিস্থলের দিকে যাত্রা শুরু হয়।

কফিন চার্চ থেকে বের করে আনতেই মানুষজনকে তাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। এর মধ্যে অনেকে ‘রাশিয়া মুক্ত হবে’, ‘যুদ্ধ নয়’, স্লোগানও দিয়েছে।

চার্চ থেকে সমাধিস্থলের দূরত্ব ছিল প্রায় ৩০ মিনিট। শবযান এগুতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে যাওয়া লোকজনের অনেকেই ‘নাভালনি, নাভালনি’, ‘আমরা তোমাকে ভুলবনা’ স্লোগান দিয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আর্কটিক পেনাল কলোনিতে হঠাৎ করেই নাভালনির মৃত্যু হয়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের কড়া সমালোচক বলে পরিচিত ছিলেন।

স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়াসহ বিশ্বনেতাদের অনেকে নাভালনির মৃত্যুর জন্য পুতিনকে দায়ী করছেন। নাভালনির মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্তারিত তেমন কিছু জানানো হয়নি।

রুশ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে নাভালনির দেহ তার মায়ের কাছে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। অবশেষে ৮ দিন পর মরদেহ মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  

নাভালনির দল চেয়েছিল ২৯ ফেব্রুয়ারি শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে। তবে দ্রুতই এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ওইদিন কবর খোঁড়ার মতো কেউ নেই। ফলে শেষকৃত্য পিছিয়ে যায়। নাভালনির দুর্নীতি বিরোধী ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইভান ঝদানভ একথা জানিয়েছিলেন।

ওইদিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ফেডারেল অ্যাসেম্বলিতে বার্ষিক ভাষণ দেওয়ার কারণেই এমনটি হয় বলে জানিয়েছিলেন ঝদানভ। তিনি অভিযোগ করে বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষ চায়না ওইদিন নাভালনির শেষকৃত্য হোক।

অন্ত্যষ্টিক্রিয়া সম্পন্নের বড় বড় হলগুলো নাভালনির সমর্থকদের পেতে কর্তৃপক্ষ বাধা দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।