Published : 15 Aug 2025, 04:35 PM
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি ব্যবসায়ী জিমি লাইয়ের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত এক মামলায় সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পিছিয়ে গেছে।
লাই বুক ধড়ফড়জনিত সমস্যায় ভুগছেন, তার আইনজীবী এ কথা জানানোর পর শুক্রবার বিচারক শুনানি মুলতুবি করেন।
৭৭ বছর বয়সী লাই প্রয়োজনীয় ওষুধ ও হার্ট মনিটর নেওয়ার পর সোমবার শুনানি ফের শুরু হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
লাইয়ের প্রতিষ্ঠিত খবরের কাগজ অ্যাপল ডেইলি ২০২১ সালের জুনে পুলিশি অভিযান ও সম্পদ জব্দের পর বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কথাবার্তা প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। লাই শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
তার আইনজীবী রবার্ট পেং আদালতকে বলেন, লাই এমন কিছু মুহূর্তের সম্মুখীন হয়েছেন, যখন তার মনে হয়েছিল তিনি ‘অজ্ঞান হয়ে যাবেন’। তিনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়েছেন কিন্তু সেই পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এখনও সম্ভব হয়নি।
“তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা মনিটর কোনোটাই নেননি, যে কারণে আমি খানিকটা উদ্বিগ্ন,” বলেছেন বিচারক এসথার তো।
ব্রিটিশ নাগরিক লাই এক হাজার ৭০০-র বেশি দিন ধরে কারাগারের নির্জন সেলে দিন কাটাচ্ছেন, তার ছেলেও এর আগে বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।
সরকারি কৌঁসুলি অ্যান্থনি চউ আদালতকে বলেছেন, লাইয়ের জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং সোমবার শুনানি ফের শুরু হওয়ার আগেই তিনি প্রয়োজনীয় সব ওষুধ ও হার্ট মনিটর পেয়ে যাবেন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আদালতে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং সোমবারের শুনানির আগে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ লাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তার মুক্তি দাবি করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
হংকং ও চীনা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, লাই ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন এবং বিদেশি সরকারগুলো চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার অন্তত সাতটি দেশের কূটনীতিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সাদা জ্যাকেট পরে আদালতে এসে লাই তার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাসিমুখে হাত নাড়েন।
মামলার সমাপনী যুক্তিতর্ক ন্যূনতম আট দিন চলবে, এরপর রায় ঘোষণার আগে বিচারকরা কয়েক মাস সময় নেবেন বলেই ধারণা করাহচ্ছে। লাইকে ২০২০ সালের অগাস্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় তার বিচার শুরু হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে।