Published : 01 Jun 2026, 05:38 PM
ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার ও শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।
ওদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও আলোচনা চলছে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি রাখা এবং ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ হওয়া স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কালিবাফ লিখেছেন, “নৌ-অবরোধ বহাল রাখা এবং গণহত্যাকারী ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর লেবাননে যুদ্ধাপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে না।”
মার্কিন প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি মূল্য থাকে এবং সেই হিসাব চুকানোর সময়ও আসে। সবকিছুই যথাস্থানে ফিরে আসবে।”
ওদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকেই তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনায় জড়িত নেই।
বাকেই বলেন, “পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কখন কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা আমাদের জানা আছে। পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা হয়নি। এই পর্যায়ে আমাদের প্রধান ও একমাত্র অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধ বন্ধ করা।”
মুখপাত্র বাকেইও মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, “এমনকি আজ সকালেও” যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরান যে কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তারা গত সপ্তাহান্তে ইরানের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের রাডার ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন এই হামলাকে তাদের ভাষায় “আত্মরক্ষামূলক আঘাত” বলে অভিহিত করেছে।