১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রুথ স্যোশালে চুক্তির প্রথম ধাপে ইসরায়েল-হামাসের রাজি থাকার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বনেতারা একে স্বাগত জানিয়েছেন।

গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব চুক্তিকে স্বাগত জানান। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Oct 2025, 06:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:26 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরায়েল ও হামাস গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে এক ঘোষণায় বলেন, “এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ।”

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী গাজায় আটক ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি বন্দি এবং ২৮ জনের মরদেহ হস্তান্তর করবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল মুক্তি দেবে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে, যাদের তালিকা হামাস দিয়েছে।

তিন দিন ধরে মিশরের শার্ম আল শেখে কাতার, তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের পরোক্ষ আলোচনার পর এই চুক্তিতে রাজি হয় হামাস-ইসরায়েল। 

ট্রাম্প বলেছেন, “এটি আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই যুদ্ধবিরতি যেন স্থায়ী শান্তিতে পরিণত হয়।”

চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা এবং এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পর বিশ্বের আরও অনেকেই তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ব জুড়ে যে যা বললেন:

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের প্রিয় বন্দিদের ঘরে ফিরিয়ে আনার আজ এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।” তিনি ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাঈম কাতারে সাংবাদিকদের বলেন, “এই চুক্তি ফিলিস্তিনি জনগণের ধৈর্যের ফল। আমরা চাই আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করুক।”

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, এই সমঝোতা “দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে এগোনোর একটি সম্ভাবনা।”

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, “ট্রাম্প এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়েছেন। তুরস্ক ঘনিষ্ঠভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।”

কাতার জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধের অবসান ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ করে দিতে এটি “একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি।”

সৌদি আরব আশা প্রকাশ করে বলেছে, “এই চুক্তি ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমাবে এবং ১৯৬৭ সালের সীমারেখা অনুযায়ী দুই রাষ্ট্রভিত্তিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।”

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ নিয়ে ইসরায়েল-হামাস মতৈক্যকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বলেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে একে “অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি বলেন, “এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে এর বাস্তবায়ন এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে প্রবেশ নিশ্চিত করা।”

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ এনে দিয়েছে।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এক্সে লিখেছেন, “এই চুক্তি গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে নিয়ে যাবে।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি গাজার জনগণের জন্য স্বস্তির খবর, তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্সে লিখেছেন, “এই পদক্ষেপ টেকসই শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।”

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘মাসের পর মাস দুর্ভোগের পর এই চুক্তি একটুখানি আশার আলো।’ তিনি সব পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে আহ্বান জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কো থেকে বলেছেন, “এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হলেও, এতে সব পক্ষের সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, “এই চুক্তি এক আশার আলো। আট দশকের সহিংসতা ও সন্ত্রাসের পর এই চক্র ভাঙার এখনই সময়।”

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা খবরকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং এটিই ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সূচনা বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

জার্মানি, কানাডা ও জাপানও একযোগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। 

ওদিকে, ডাচ প্রধানমন্ত্রী এক্সে বলেছেন, এই চুক্তি গাজার জনগণ এবং জিম্মি ও তাদের পরিবারের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে পারে। তিনি চুক্তিটি দ্রুত বাস্তাবায়নের ওপর জোর দেন এবং বলেন এই চুক্তিকে স্থায়ী ও ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ধাপ হতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টোন পিটারস বলেন, “স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এই চুক্তি একটি অপরিহার্য প্রথম ধাপ। আমরা ইসরায়েল এবং হামাসকে পূর্ণ সমাধানের পথে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”