Published : 08 Aug 2026, 07:12 PM
নেটো জোট কতটা ঐক্যবদ্ধ তা পরীক্ষা করতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জোটভুক্ত কোনো সদস্য দেশে সীমিত আকারের হামলা চালাতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন; যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থারগুলোর সাম্প্রতিক কয়েকটি গোপন মূল্যায়নে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই খবর জানিয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে রাশিয়ার পক্ষ থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধির বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে সীমান্তে ছোট আকারের অনুপ্রবেশ। সূত্রগুলোর মতে, এর লক্ষ্য হল নেটোর ঐক্য এবং ‘অনুচ্ছেদ ৫’ এর প্রতি সদস্য দেশগুলোর অঙ্গিকারকে চ্যালেঞ্জ করা। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নেটো ভুক্ত কোনো দেশকে আক্রমণ করা মানে সবার ওপর হামলা আর পুরো নেটো মিলে সেই হামলার জবাব দেবে। তবে রাশিয়ার উস্কানিমূলক পদক্ষেপ এমন পর্যায়ে নাও যেতে পারে যার ফলে নেটো মিত্রদেশগুলোর পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।
পুতিন কীভাবে বা কখন এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন তা নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। তবে একটি সূত্রের মতে, এই হামলার জন্য বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো বা পোল্যান্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
ইউক্রেইন যুদ্ধে নিজের সম্মান রক্ষার উপায় না পেলে পুতিন নেটো সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াতে পারেন বলে মনে করছেন মার্কিন ও নেটো কর্মকর্তারা।
ইতিমধ্যেই নেটো সীমানায় রাশিয়ার ড্রোন অনুপ্রবেশের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে রুমানিয়ায় একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এক আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে ২ জন আহত হয়। রশিয়ার বাহিনীগুলো নিকটবর্তী ইউক্রেইনীয় বন্দরে হামলা চালানোর সময় ঘটনাটি ঘটে। পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বরে ইউক্রেইনে হামলার সময় পোল্যান্ডের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একাধিক রুশ ড্রোন ভূপাতিত করে নেটো যুদ্ধবিমান।
এদিকে গত বুধবার রাতে জার্মানির একটি বিমানবন্দরের সুরক্ষিত কার্গো এলাকায় সামরিক বিস্ফোরক ভর্তি একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পাঠানো।
এ ঘটনাকে ‘নতুন হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিড্রিখ্ মেআৎর্সের নেতৃত্বে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বৈঠক করেছে।
পুতিনের এই হামলার আশঙ্কার মধ্যেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ কমে যাওয়া। ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’-এর প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাটতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গোপনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশে রেকর্ড পরিমাণে নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেইনে রাশিয়ার দূরপাল্লার অস্ত্রের হামলায় বেসামরিক নিহতের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
সম্প্রতি এক রাতেই রাশিয়ার ব্যালেস্টিক ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ডজনখানেক লোক আহত হয়। ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটিও আটকাতে পারেনি।
নেটোর জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র মার্টিন ও'ডনেল গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, “নেটো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আত্মরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”
রাশিয়া ও ইউক্রেইনের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে থমকে আছে। পশ্চিমের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও তা ইউক্রেইনে পুতিনের সামরিক অভিযান থামানোর মতো যথেষ্ট হয়নি।