ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানি বয়কট করেছে রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচার আদালতে (আইসিজে) ইউক্রেইনের করা মামলার শুনানি বয়কট করেছে রাশিয়া।
রাশিয়ার আইনি প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই সোমবার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালতে মামলার শুনানি হয় ০৯০০ জিএমটি তে।
ইউক্রেইনের প্রতিনিধি আন্তন কোরিনেভিচ বলেছেন, “রাশিয়া এই আইনের আদালতে নেই। তারা আমার দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে আগ্রাসী যুদ্ধ চালাচ্ছে।”
তিনি রাশিয়াকে অস্ত্র জমা দেওয়া এবং প্রমাণ উপস্থাপন করার আহ্বান জানান। ওদিকে, শুনানিতে রাশিয়া অনুপস্থিত থাকায় আদালত দুঃখ প্রকাশ করেছে।
নেদারল্যান্ডসে রাশিয়ার দূতাবাসের মুখপাত্রের কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি এক টুইটে জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আইসিজে-তে মামলার আবেদন জমা দিয়েছে ইউক্রেইন।
তিনি বলেছিলেন, 'আগ্রাসনের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গণহত্যার ধারণাকে কাজে লাগানোয় রাশিয়াকে জবাবদিহি করতেই হবে। আমরা এখনই রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি এবং (৭মার্চ) বিচার শুরুর আশা করছি।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেইনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছিলেন, পূর্ব ইউক্রেইনের রুশভাষী জনগণকে ইউক্রেইনের নিপীড়ন, গণহত্যা থেকে রক্ষা করতেই এ অভিযানের প্রয়োজন।
সোমবার ইউক্রেইন রাশিয়ার এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং পূর্ব ইউক্রেইনে গণহত্যার যে অভিযোগ রাশিয়া করেছে, সেরকম কিছু আদৌ নেই বলে দাবি করেছে। রাশিয়া ‘গণহত্যা কনভেনশন’ লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করেছে ইউক্রেইন।
“রাশিয়াকে থামাতে হবে এবং একে থামানোর জন্য আদালতেরও কিছু ভূমিকা আছে” বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ন্যাবিচার আদালতে ইউক্রেইনের প্রতিনিধি আন্তন কোরিনেভিচ।
নেদারল্যান্ডসের হেগ-ভিত্তিক আইসিজে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত। কোনও রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না সে বিষয়ে এ আদালত সিদ্ধান্ত নেয়।
