২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কোভিড-শূন্য অঞ্চলে কড়াকড়ি শিথিলে লাখো মানুষ মরতে পারে: গবেষণা

চীনের মতো ‘কোভিড-শূন্য অঞ্চলে’ জনজীবন স্বাভাবিক করা হলে তা এক বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে বলে সতর্ক করেছেন চীনের একদল গবেষক।

রয়টার্স

>>

রয়টার্স

Published : 08 Feb 2022, 12:10 AM

Updated : 28 Apr 2022, 11:37 PM

এছাড়া, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য সংক্রমণের বিস্তার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের চাইতে টিকার উন্নয়নই বেশি কার্যকর অস্ত্র হবে বলে মত তাদের।

করোনাভাইরাসের নতুন ওমিক্রন ধরনের কারণে সারা বিশ্বেই জানুয়ারি থেকে সংক্রমণ বেড়েছে। চীন সরকার দেশে কোভিড প্রতিরোধে কঠোর ‘জিরো-কোভিড’ নীতিতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু বেইজিংয়ে চলমান শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের কারণে তাদের সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে।

চীনের বিজ্ঞানী এবং গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। আর যদি সেটা হয় তবে গণ সংক্রমণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করবে।

টিকা কতটা কার্যকর সে বিষয়ে গবেষণার জন্য চীনের গবেষকরা চিলি এবং যুক্তরাজ্য থেকে ‘প্রাথমিক কার্যকারিতার’ উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। চিলিতে করোনাভ্যাক এবং যুক্তরাজ্যে ফাইজার ও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের থেকে তথ্য নেওয়া হয়।

গবেষকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শরীরে কোভিডের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল এমন ব্যক্তিদের বেলায় টিকার গড় কার্যকারিতা ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আর বর্তমানে যেসব টিকা আছে সেগুলো কোভিডে মৃত্যু রুখতে ৮৬ শতাংশ কার্যকর।

কিন্তু এরপরও গবেষকরা কোভিড-১৯ মহামারীর আগের মত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনই ফিরিয়ে আনা উচিত হবে না বলে সতর্ক করেছেন।

তারা বলেছেন, যদি বিশ্বজুড়ে ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয় এবং তারপর যদি ২০১৯ সালের মত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হয়, তবে সব কোভিড-শূন্য অঞ্চলে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হবেন। যাদের মধ্যে ছয় কোটি ৪০ লাখ মানুষের দেহে উপসর্গ থাকবে এবং ২০ লাখ ‍মানুষ মারা যাবেন।

চীনা ‘সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিসিডিসি) এর সাপ্তাহিক বুলেটিনে শুক্রবার এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘কোভিড-১৯ কে বিশ্ব থেকে নির্মূল করতে মানুষের উচিত টিকার উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখা এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকার ‍সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার নতুন নতুন পথ খুঁজে বের করা।”

গবেষকরা আরও বলেছেন, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পর কোভিড-১৯ এর প্রকোপ ইনফ্লুয়েঞ্জার পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হলেও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা আরও ৪০ শতাংশ বাড়াতে হবে।