২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মিনিয়াপোলিসে ফের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যা, শত শত মানুষের বিক্ষোভ

পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক আমির লকের মৃত্যুর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের রাস্তায় শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Feb 2022, 11:53 PM

Updated : 25 Oct 2022, 10:12 AM

Image
ছবি: রয়টার্স
Image
ছবি: রয়টার্স

গত বুধবার মিনিয়াপোলিসে আমিরের বাড়িতে পুলিশ বিনা নোটিশে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় গুলিতে নিহত হন তিনি। শনিবার এ হত্যার বিচারের দাবিতে তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করেছে মানুষ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘বিচার নেই, শান্তি নেই’ স্লোগান দেয়।

প্রায় দু’বছর আগে এ শহরেই শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে নিহত হয়েছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল মিনিয়াপোলিসবাসী। পরে বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রেজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। সামনে নিয়ে এসেছিল পুলিশের নৃশংসতা এবং দেশটির ক্রিমিনাল জাস্টিস ব্যবস্থায় পক্ষপাতদুষ্টতা।

সেই মিনিয়াপোলিস শহরেই আবার গত বুধবারের কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, তল্লাশির সময় শুয়েছিলেন আমির লক। পুলিশ তালা খুলে তার বাসায় ঢোকে। চিৎকার করে বলতে থাকে “পুলিশ! সার্চ ওয়ারেন্ট! বেরিয়ে আসুন।” এ সময় আমির পুলিশকে লক্ষ্য করে পিস্তল তাক করতেই পুলিশ তাকে তিনটি গুলি করে হত্যা করে।

পুলিশ জানায়, আমিরের বাড়িতে ‘নো-নক ওয়ারেন্ট’ তল্লাশি চালিয়েছেন তারা। এ পদ্ধতিতে তল্লাশির আগে আগাম জানানোর প্রয়োজন পড়ে না। একটি খুনের ঘটনার তদন্তের আওতায় সেন্ট পল পুলিশ বিভাগ এই সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিল। তবে ওয়ারেন্টে আমিরের নাম ছিল না।

তছাড়া, মিনিয়োপোলিসের পুলিশ এও স্বীকার করেছে যে, খুনের ঘটনার তদন্তের সঙ্গে আমির কীভাবে জড়িত ছিলেন বা আদৌ তার কোনও যোগ ছিল কিনা সে ব্যাপারে তারা স্পষ্ট কিছু জানেন না।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিনিয়াপোলিসের অন্তর্বর্তী পুলিশ প্রধান অ্যামেলিয়া হাফম্যান বলেন, এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে বন্দুক তাক করায় তৎক্ষণাৎ গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে নিহত হন আমির। কাউন্টির অ্যাটর্নি কার্যালয় ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।

Image
ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

বিক্ষোভকারীরা বলছে, কোনও সতর্কতা ছাড়াই পুলিশি তল্লাশির ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আমির লকের অধিকার আছে তার নিজ বাড়িতে বন্দুক তাক করার। তাছাড়া, তাকে নিরস্ত্র হওয়ার কোনও সুযোগও দেয়নি পুলিশ।

অন্তত ৫০০ মানুষ শনিবার আমির লক হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। তারা ‘নো-নক’ ওয়ারেন্ট নিঃশর্তে নিষিদ্ধ করা এবং আমিরকে গুলির ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শহরের মেয়র ও পুলিশ প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছে।

আমির লকের পরিবারের আইনজীবীরা বলছেন, “তার (আমির) অপরাধের কোনও ইতিহাস নেই এবং তাকে যখন গুলি করা হয় সে সময় তার হাতে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।”