পাকিস্তানে তুষারপাত: আটকা পড়া গাড়ির কয়েকশ’ যাত্রী উদ্ধার
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি শহর মারিতে ভারি তুষারপাতে রাস্তায় আটকা পড়া অসংখ্য গাড়ির কয়েকশ’ যাত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বছর মারিতে অস্বাভাবিক ভারি তুষারপাত হচ্ছে। তুষারপাত দেখতে সেখানে হঠাৎ করে প্রচুর পর্যটক হাজির হয়েছেন। গত কয়েকদিনে মারিতে এক লাখের বেশি গাড়ি ঢুকেছে বলে জানা গেছে।
এতে শহরটির দিকে যাওয়া ও বের হয়ে আসার পথগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবারের তুষারপাত ছিল নজিরবিহীন। ওইদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারি শহর এবং তার আশেপাশের এলাকা চার থেকে পাঁচ ফুট পুরু তুষারে ঢাকা পড়ে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এটাকে শুধু তুষারপাত বা ভারি তুষারপাত বলা যাবে না। এটা ছিল নজিরবিহীন। দমকা হাওয়া বইছিল, তুষারের ভারে অনেক গাছ উপড়ে যায়, কয়েক জায়গায় তুষারধস হয়েছে। চারিদিকে লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।”
শুক্রবার সকালে মারি শহরের কাছে একটি সরু পাহাড়ি রাস্তায় অনেক গাড়ি আটকা পড়ে। যেগুলোতে পাঁচশর বেশি পরিবার ছিল বলে জানায় পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, গাড়িগুলো একটির বাম্পারের সঙ্গে অন্যটি বাম্পার লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলোর ছাদে পুরু তুষার জমেছে।
জরুরি সেবার তথ্যানুযায়ী, তুষারপাতে আটকা পড়ে ওইদিন অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০টি শিশু। পুলিশ জানায়, মারা যাওয়াদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিজ গাড়ির ভেতর ঠান্ডায় জমে মারা গেছেন।
বাকিরা সম্ভবত গাড়ির ভেতর ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে গাড়ির ভেতরটা গরম রাখতে গিয়ে বিষাক্ত ওই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মারা যাওয়াদের মধ্যে একটি পরিবারের আট জন এবং অন্য একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য রয়েছে বলে জানায় বিবিসি। গাড়িতে আটকা পড়ারা এখন নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে। তাদের কেউ কেউ প্রায় সাড়ে সাত হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ি শহর মারিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
শহরে গ্যাস ও পানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। তারপরও স্থানীয় বাসিন্দা এবং রেস্তোরাঁর মালিকরা পর্যটকদের আশ্রয়, খাবার ও কম্বল দিয়ে সাহায্য করছেন। শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘পর্যটকদের এমন বেদনাদায়ক মৃত্যুর খবর শুনে তিনি অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছেন’।
তিনি বলেন, ‘‘দলে দলে পর্যটক আবহাওয়ার খবর না নিয়ে এবং কতটা তুষারপাত হবে সেটা না জেনে মারি শহরে ভিড় করে। স্থানীয় প্রশাসন এত ভিড় সামাল দিতে প্রস্তুত ছিল না।”
পাঞ্জাবের প্রাদেশিক গভর্নর বলেন, আবহাওয়া অফিস সঠিক সময়ে সতর্কবার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কিনা তা উদ্ধার অভিযান শেষে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
