মিয়ানমারে মানবাধিকারের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বেড়েছে: জাতিসংঘ
মিয়ানমারে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়। সেনাবাহিনী মানুষজনকে নির্মমভাবে হত্যা করছে এবং দেহ পুড়িয়ে দিচ্ছে।
মিয়ানমারের সাগাইং গ্রামে দু’দিন আগেই ১১ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের বয়ান এবং গণমাধ্যমের খবরে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সেনাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে।
বলা হচ্ছে, সেনারা ওই ১১ জনকে বেঁধে গুলি করেছে এবং দেহে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পুড়ে যাওয়ার সময় তাদের কেউ কেউ জীবীত ছিলেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল্লে শুক্রবার জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “মিয়ানমারে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমরা স্তম্ভিত।”
“কেবল গত এক সপ্তাহেই নিরাপত্তা বাহিনী ১১ জনকে হত্যা করেছে এবং পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন শিশুও আছে। বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে গাড়ি ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘন করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ওদিকে, সাগাইং ও এর আশেপাশের গ্রামগুলোর স্বেচ্ছাসেবী এক ত্রাণকর্মী প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলেছেন, “সেনারা যাকেই পাচ্ছে তাকেই নির্মমভাবে হত্যা করছে। যাদেরকে মারা হচ্ছে তারা মিলিশিয়া সদস্য নাকি সাধারন মানুষ তা বোঝা যাচ্ছে না।”
মিয়ানমারে গত ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভ-আন্দোলনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে সেখানে গড়ে উঠেছে মিলিশিয়া বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)।
এই বাহিনীর এক সদস্য ফোনে বলেছেন, সেনারা গুলি করতে করতে গ্রামে ঢুকে আটকদেরকে কাছাকাছি একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের খবরে জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।
তিনি এ ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সাধারন মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে মিয়ানমারের জান্তা কর্তৃপক্ষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
নৃশংস এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন দুজারিক। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিভাগের মুখপাত্রও মিয়ানমারের সেনাদের ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
