জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ- এর যোগাযোগ পরিচালক বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি না পেলে গাজায় বুধবার রাত থেকেই কার্যক্রম বন্ধে বাধ্য হতে হবে।
Published : 24 Oct 2023, 09:08 PM
ফিলিস্তিনি শরণার্থী তদারককারী জাতিসংঘ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) সতর্ক করে বলেছে, গাজায় জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি পাওয়া না গেলে সেখানে ত্রাণকার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
বিবিসি রেডিও ফোর কে এক অনুষ্ঠানে ইউএনআরডব্লিউএ- এর যোগাযোগ পরিচালক জুলিয়েত্তে তোউমা বলেছেন, “আমরা জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি না পেলে গাজায় বুধবার রাত থেকেই আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।”
ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে গাজার মানুষের অবস্থা এখন যা আছে তার চেয়েও আরও বেশি শোচনীয় হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি। ওদিকে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস বলেছেন, হামাস জ্বালানি মজুদ করছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের হামলায় কমপক্ষে ১৪ শ’ জন নিহত এবং ২০৩ জন জিম্মি হওয়ার পর ইসরায়েল এর জবাবে গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকে অবিরাম বিমান হামলা চলছে।
তাছাড়া, ইসরায়েল গাজায় বিদ্যুতের পাশাপাশি খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে। জাতিসংঘ সেখানকার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর আখ্যা দিয়েছে।
গত শনিবার প্রথম মিশরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় সামান্য কিছু ত্রাণ ঢোকে। এই সামান্য ত্রাণকে ‘মহাসাগরে এক ফোঁটা পানির’ সঙ্গেই তুলনা করেছিল জাতিসংঘ।
ইউএনআরডব্লিউএ- এর যোগাযোগ পরিচালক জুলিয়েত্তে তোউমা বলেছেন, তাদের ত্রাণ সংস্থাটির ১৫০ টি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। সেগুলোর বেশিরভাগই স্কুল ছিল। এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৬ লাখ মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে এসেছে।
তাদের খাবার, পানি এবং পয়নিষ্কাশন সেবা দরকার। তাদের ম্যাট্রেস এবং সুরক্ষাও দরকার। তাদেরকে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ বন্ধ হয়ে গেলে গাজার এই মানুষগুলো সাহায্যের জন্য আরও মরিয়া হয়ে উঠবে।
গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় “হাসপাতাল ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়েছে।”
এতে বলা হয়, “আমরা নিশ্চিত করে জানাচ্ছি যে, ১২ টি হাসপাতাল এবং ৩২ টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিষেবা বিহীন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েকঘন্টায় বিমান হামলা হতে থাকা এবং জ্বালানি না থাকার কারণে আরও হাসপাতালে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।
বিবৃতিতে হাসপাতালগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্ববানও জানানো হয়।