১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় প্রতি রাতে ‘৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে’ হত্যার প্রস্তাব ইসরায়েলি মন্ত্রীর

আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলে অতি-কট্টরপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

গাজায় প্রতি রাতে ‘৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে’ হত্যার প্রস্তাব ইসরায়েলি মন্ত্রীর
ইসরায়েলের অতি-কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 04:36 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

গাজায় প্রতি রাতে অন্তত ‘৩০ থেকে ৪০ জন’ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি না করলেও ফিলিস্তিনিদের এই হত্যার তালিকায় আনা উচিত।

আল জাজিরা লিখেছে, রোববার প্রকাশ্যে আসা একটি পডকাস্টে সাবেক এক ইসরায়েলি জিম্মি রম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতৃত্বাধীন আক্রমণের পর গাজায় ইসরায়েলের শুরু করা ‘গণহত্যামূলক’ যুদ্ধের সময় ব্রাসলাভস্কি বন্দি ছিলেন। বেন-গভিরের এই চরমপন্থি মন্তব্যটি ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মন্তব্যটি তার দীর্ঘ চরমপন্থি বক্তব্যের তালিকার সর্বশেষ সংযোজন।

পডকাস্টে ফিলিস্তিনিদের বেছে বেছে হত্যার আহ্বান জানিয়ে বেন-গভির বলেন, “ওখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তারা তো মানুষই নয়।”

তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দেশটির পুলিশ ও কারা সেবা নিয়ন্ত্রণ করেন।

আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলে এই অতি-কট্টরপন্থি মন্ত্রীর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

ব্রাসলাভস্কিকে বেন-গভির বলেন, বর্তমান ‘যুদ্ধবিরতির’ অধীনে গাজায় সামরিক হামলা কমিয়ে আনার যে সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহু নিয়েছেন, তার সঙ্গে তিনি একমত নন।

এর বদলে তিনি বেছে বেছে হত্যার (টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন) নীতি পুনরায় চালুর পক্ষে, যা কেবল সক্রিয় হুমকি হিসেবে বিবেচিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সেনাবাহিনীর ওপর আনুষ্ঠানিক কোনো কর্তৃত্ব না থাকায় বেন-গভির নিজে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন না। তবে তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য, যে শীর্ষ ফোরামটি যুদ্ধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক নীতিনির্ধারণ করে থাকে।

ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে সামরিক আদালতে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সদ্য পাস হওয়া আইন নিয়ে কথা বলার সময় ব্রাসলাভস্কিকে বেন-গভির প্রতিশ্রুতি দেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় তাকে (ব্রাসলাভস্কি) ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেবেন তিনি।

এ সময় ব্রাসলাভস্কি তাকে অনুরোধ করেন, সুযোগ হলে যেন তাকে নিজ হাতে তা কার্যকর করতে দেওয়া হয়। 

ব্রাসলাভস্কি বলেন, “আমি দড়ি চাই না, আমি বন্দুকের ট্রিগার চাই। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিটি সন্ত্রাসীকে আমি নিজ হাতে মৃত্যুদণ্ড দেব।”

জবাবে বেন-গভির বলেন, সেই সুযোগ করে দিতে তিনি ‘দুনিয়া উল্টে দেবেন’ এবং এ বিষয়ে যা করার তার সবই করবেন।

আলোচনায় বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে গাজা ছেড়ে যেতে উৎসাহিত করার এবং ওই ভূখণ্ডে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষেও মত দেন। ব্রাসলাভস্কিকে তিনি বলেন, “পুরো গাজাকে আমি আমাদের বলে মনে করি।”

এই মন্তব্য তিনি আগেও বহুবার করেছেন। আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের জোরপূর্বক বা পরিকল্পিত গণ-স্থানান্তর কার্যত ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল হতে পারে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় অন্তত ১২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

কৈশোরে নিষিদ্ধ উগ্র জাতীয়তাবাদী কাহানিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থেকে শুরু করে বেন-গভিরের এ ধরনের মন্তব্য কয়েক দশক ধরেই একটি ছকে বাঁধা।

মন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রাণঘাতী হামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের অবধারিত শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি বন্দি থাকা ইসরায়েলি কারাগারগুলোর পরিবেশ ইচ্ছাকৃতভাবে আরও খারাপ করার বিষয়েও তিনি দম্ভ প্রকাশ করেছেন।

তার এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিলেও তাকে বড় ধরনের কোনো পরিণতি ভোগ করতে হয়নি। যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও, তার কার্যকলাপে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।