১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজে ইরানবিরোধী অভিযানে যোগ না দিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষার কোনও অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া জড়িত হলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা দেশটির বিভিন্ন স্বার্থ ও স্থাপনা হামলার মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

হরমুজে ইরানবিরোধী অভিযানে যোগ না দিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 10:39 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোনও অভিযানে অংশ নিলে দক্ষিণ কোরিয়াকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে এবং পারস্য উপসাগরে দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পদে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মারান্দি।

আল মায়াদিন টিভি চ্যানেলের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ’ আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

মারান্দি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষার কোনও অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া জড়িত হলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন স্বার্থ ও স্থাপনা ইরানের হামলার মুখে পড়বে।

“দক্ষিণ কোরিয়া যদি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে অংশ নেয়, তবে ইরান তাদের শত্রু হিসেবে দেখবে। তখন তেহরান ওই অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার যা কিছু সম্পদ বা বিনিয়োগ আছে, তা ধ্বংস করার চেষ্টা করবে”, বলেন তিনি।

মারান্দি আরও বলেন, “লক্ষ্যবস্তুগুলো যে কেবল সামরিক স্থাপনাই হবে তা নয়; বরং সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন স্বার্থ বা স্থাপনাও ইরানি হামলার আওতায় পড়বে।"

তার কথায়, “কোরীয়রা ইরানের কাছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইরান তাদের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক বা অবাধ করার অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া সম্ভাব্য নৌ সহায়তার কথা বিবেচনা করছে—এমন সময়ে ইরানি শিক্ষাবিদ এই হুঁশিয়ারি দিলেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় অবশ্য জানিয়েছে, “বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে, তবে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।”

সামরিক ক্ষেত্রে কী ধরনের অবদান রাখা যেতে পারে—যার মধ্যে যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণ, অ-যুদ্ধকালীন বা বেসামরিক ভূমিকা এবং তল্লাশি অভিযান রয়েছে—সেসব সম্ভাব্য সাধারণ বিকল্প পথগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রকৃত অবদানের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে কার্যালয় জানিয়েছে।

সিউল ওই অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম বা সম্পদ পাঠানোর কথা ভাবছে এবং পার্লামেন্টের কাছ থেকে অনুমোদন চাইছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে।

‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি পি-৮ পসাইডন সামুদ্রিক টহল বিমান এবং একটি নৌ লজিস্টিকস (রসদ) সহায়তা জাহাজ রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচার মাধ্যমগুলো আরও জানায়, নৌবাহিনীর একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলও হরমুজ অভিযানে পাঠানো হতে পারে।

নিজেদের জ্বালানি চাহিদার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল; গত বছর দেশটি ৬১ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আমদানি করেছে।