Published : 10 Aug 2025, 06:37 PM
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তের প্রপাগান্ডা চালানো কিছু লাউডস্পিকার সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
এর আগে এ সপ্তাহের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়াও সীমান্ত থেকে তাদের লাউডস্পিকাগুলো সরিয়ে নিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মায়ুং গত জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তের অসামরিক এলাকায় লাউডস্পিকারে সম্প্রচার বন্ধ করে দেশটি।
এরপর উত্তর কোরিয়াও একই পদক্ষেপ নিল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মায়ুং আন্ত-কোরীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সীমান্ত থেকে স্পিকার সরিয়ে এর সূচনা করেন। এবার উত্তর কোরিয়া স্পিকার সরানোর পদক্ষেপ নিয়ে মায়ুংয়ের উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী বলেছে, তারা এদিন সকালে সীমান্তের সম্মুখভাগ থেকে উত্তর কোরিয়ার সেনাদেরকে প্রপাগান্ডা লাউডস্পিকার সরিয়ে নিতে দেখেছে।
তবে গোটা অঞ্চল থেকে লাউডস্পিকারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা সেটি এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি। সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
কয়েক দশক ধরে দুই কোরিয়া ওই স্পিকারগুলো ব্যবহার করে একে অপরের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এ সমস্ত স্পিকারে সংবাদ এবং পপ সঙ্গীতের মিশ্র প্রচার চালানো ছাড়াও উত্তর কোরিয়ার সমালোচনা করত।
উত্তর কোরিয়াও স্পিকারে করে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সমালোচনা করত এবং নিজেদের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রশংসা করত।
এই প্রচারণা অতীতে কখনও কখনও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ছয় বছরের বিরতির পর ২০২৪ সালের জুনে উত্তর কোরিয়া ময়লা ভর্তি বেলুন দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো শুরু করলে এর জবাবে আবার লাউডস্পিকারে প্রচার শুরু করেছিল সিউল।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইওলের আমলে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কে অবনতি হয়েছিল। ইওল উত্তর কোরিয়ার প্রতি কঠোর ছিলেন।
গতবছর ডিসেম্বরে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করা নিয়ে সংকটের মুখে ইওল অভিশসিংত এবং ক্ষমতাচ্যুত হন। সামরিক আইন জারির পেছনে যুক্তি হিসেবে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি ও উত্তর কোরিয়া থেকে হুমকির কথা জানিয়েছিলেন তিনি।