২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

মিয়ানমার জান্তা সরকারের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল বিদ্রোহীরা

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সু চির সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সামরিক জান্তা সরকার আসার পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে লড়ে আসছে বিভিন্ন বিদ্রোহী ও সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী।

মিয়ানমার জান্তা সরকারের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল বিদ্রোহীরা
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Sep 2024, 06:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:33 AM

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র পরিহার করে রাজনৈতিক সংলাপে বসার আহ্বান জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিদ্রোহীরা।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটি শাসন করছে সেনাবাহিনী সমর্থিত ‘দ্য স্টেট অ্যাডিমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল’ (এসএসি)।

সেনা অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র জাতিগত বিভিন্ন গোষ্ঠী ও বিদ্রোহী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস এর (পিডিএফ) লড়াই চলছে। 

এমন পরিস্থিতিতে জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। 

তাছাড়া, জান্তা সরকার কেবল সংলাপের শান্তি প্রস্তাবই নয়, বরং আগামী বছর পরিকল্পিত নির্বাচনেও বিদ্রোহীদেরকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কিন্তু মিয়ানমারের জান্তা-বিরোধী নির্বাসিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভমেন্ট (এনইউজি) বলেছে, জান্তার প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখার যোগ্য নয়। জান্তা সরকারের নির্বাচন করার কোনও এখতিয়ার নেই বলেও জানিয়েছে এনইউজি।

গত বছরের অক্টোবরে বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একজোট হয়ে হামলা শুরুর পর থেকে মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। 

কয়েকটি খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ভূখন্ডের অর্ধেকেরও কম অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন জান্তা বাহিনীর হাতে আছে। ফলে সামরিক বাহিনী এখন লড়াই অবসানের জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়েছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার জান্তা সরকার বিদ্রোহীদেরকে সংলাপে বসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাল। কিন্তু বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এ আহ্বান এত সহজেই মেনে নেওয়ার পক্ষপাতি নয়।

বিবিসি জানায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কয়েক দশক ধরে লড়ে আসা বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) বলেছে, সামরিক বাহিনী কয়েকটি সাধারণ রাজনৈতিক দাবি মানতে রাজি হলে তবেই আলোচনা হতে পারে।

এর একটি হচ্ছে: ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কোনওরকম সামরিক অংশগ্রহণ থাকা যাবে না। দ্বিতীয়ত: দুই পক্ষকেই একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক সংবিধানে রাজি হতে হবে। 

আর তৃতীয়ত: সামরিক বাহিনী এ পর্যন্ত যা যা করেছে তার সবকিছুর জবাবদিহি তাদেরকে করতে হবে…যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাব দিতে হবে। এ বিষয়ে কোনও ছাড় তারা পাবে না।

জান্তা সরকার এই সব দাবি মেনে না নিলে কেএনইউ তাদের ওপর রাজনৈতিক এবং সামরিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে যাবে, বলেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির মুখপাত্র।

মিয়ানমারের আরেক জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী বামার পিপলস লিবারেশন আর্মিও বলেছে, জান্তার শান্তি সংলাপের প্রস্তাবে তারা আগ্রহী নয়।

পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী অন্তত ৫ হাজার ৭০৬ জনকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ২১ হাজার মানুষকে আটক করেছে। 

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা গত মাসে বলেছেন, সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ 'আশঙ্কাজনক হারে' বেড়েছে।

অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) কে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার নির্বাচনে জালিয়াতির দাবি করা জেনারেলরা নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

'ভোটার তালিকার নিশ্চিত করতে' ১ অক্টোবর থেকে আদমশুমারি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিদ্রোহীদেরকে সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

জান্তা সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনও দেয়নি, তবে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তারা নতুন করে কঠোর নির্বাচনী আইন ঘোষণা করে।