রানির শেষকৃত্য: সৌদি যুবরাজকে আমন্ত্রণ ঘিরে সমালোচনার ঝড়

মানবাধিকারকর্মীরা সৌদি আরব বা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে যত আপত্তিই তুলুক, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাজ্যের নির্ভরযোগ্য মিত্র হয়ে আছে সৌদি আরব।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Sept 2022, 03:37 PM
Updated : 17 Sept 2022, 03:37 PM

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার প্রশ্নে সৌদি আরব এবং যুবরাজ মোহাম্মদকে অনেকদিন ধরেই ‘একঘরে’ করে রেখেছে পশ্চিমা বিশ্ব। বিশেষ করে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাশুগজিকে হত্যার পর।

সিআইএর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুবরাজ মোহাম্মদের নির্দেশেই খাশুগজিকে হত্যা এবং তার মৃতদেহ গায়েব করে দেয়া হয়।

যদিও সৌদি আরব সরকার এবং যুবরাজ মোহাম্মদ উভয়ই খাশুগজি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

একসময় সৌদি আরবের রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠজন থেকে রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক হয়ে ওঠার কারণেই হয়তো খাশুগজিকে জীবন দিতে হয়েছে।

Also Read: রানির শেষকৃত্যে আমন্ত্রণ পায়নি রাশিয়া-মিয়ানমার-বেলারুশ

খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের পর আর যুক্তরাজ্য যাননি যুবরাজ মোহাম্মদ।

তিনি এই সপ্তাহান্তে লন্ডন যাচ্ছেন বলে বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে সৌদি দূতাবাস। তবে তিনি রানির মূল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে।

যুবরাজ মোহাম্মদের লন্ডন যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খাশুগজির বাগদত্তা ‍হাতিজে চেঙ্গিস বলেন, ‘‘তাকে( যুবরাজ মোহাম্মদ) আমন্ত্রণ জানানো রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মরণে করা অনুষ্ঠানের জন্য একটি কলঙ্ক।’’

হাতিজে বরং যুবরাজ মোহাম্মদ লন্ডনে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানিয়েছেন। সঙ্গে এও বলেছেন, ‘‘কিন্তু আমি জানি এমনটা ঘটবে না।”

সৌদি আরব এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বাদশাহদের রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানোর তীব্র সমালোচনা করে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন থেকে বলা হয়, এর মাধ্যমে তারা তাদের মানবাধিকার বিষয়ক রেকর্ড ‘ধুয়ে সাফ করার’ সুযোগ পেয়ে যাবে।

মানবাধিকার প্রশ্নে সৌদি আরবের রেকর্ড যত খারাপই হোক না কেনো বা মানবাধিকারকর্মীরা সে দেশ ও যুবরাজ মোহাম্মদকে নিয়ে যত আপত্তিই তুলুক, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাজ্যের নির্ভরযোগ্য মিত্র হয়ে আছে সৌদি আরব।

এছাড়া, পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের পথে সৌদি আরবকে একটি বড় প্রতিরোধক বলে মনে করে।

আর্থিক নানা কারণেও সৌদি আরবকে তাদের আমলে নিতে হয়। সৌদি আরব পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র কেনে। পশ্চিমা অনেক বিশেষজ্ঞকে উচ্চ বেতনে উচ্চ পদে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে সৌদি আরব।

ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারের তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থা বেশ খারাপ। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশ্বকে সৌদি আরবের তেলের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

তাই মানবাধিকার নিয়ে যত আপত্তিই থাকুক, পশ্চিমাদের এখন নিজেদের স্বার্থে সেসব মাটিচাপা দিতে হচ্ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক