১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় বোমার চেয়ে রোগেই মরতে পারে বেশি মানুষ: ডব্লিউএইচও

গাজার জাতিসংঘ পরিচালিত কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে শিশুরা ব্যাপকহারে ডাইরিয়া এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

গাজায় বোমার চেয়ে রোগেই মরতে পারে বেশি মানুষ: ডব্লিউএইচও

ছবি: বিবিসি ভিডিও।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Nov 2023, 11:45 PM

Updated : 28 Nov 2023, 11:45 PM

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা না গেলে সেখানে বোমা হামলায় মানুষের মৃত্যুর চেয়েও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে রোগের চিকিৎসা না পেয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।

গাজার জাতিসংঘ পরিচালিত কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে শিশুরা ব্যাপকহারে ডাইরিয়া এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জাতিসংঘ কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়ে আছে প্রায় ১১ লাখ মানুষ।

ক্যান্সারের মতো ক্রনিক রোগে আক্রান্ত রোগীরাও কোনও চিকিৎসা পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জাতিসংঘের হিসাবমতে, গাজায় গত৭ সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচতে ১৮ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই আশ্রয় নিয়ে আছে ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ- এর ১৫৬ টি কেন্দ্রে।

ডব্লিউএইচও এর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস জেনিভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওই সব কেন্দ্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা গেছে, সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের মধ্যে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। পাঁচ বছর ও এর বেশি বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা গেছে ডাইরিয়ার প্রকোপ; যার মাত্রা নভেম্বরের শুরুর দিকে ছিল স্বাভাবিকের চাইতে ১০০ গুণ বেশি।

তাদের জন্য নেই কোনও চিকিৎসা। আর চিকিৎসা ছাড়া বিশেষত, শিশুদের অবস্থা খারাপের দিকে যেতে পারে এবং তারা খুব দ্রুতই মারা পড়তে পারে।

জাতিসংঘের হিসাবমতে, গাজার উত্তরাঞ্চলে মাত্র ৫ টি হাসপাতাল আংশিক সচল আছে। গাজার উত্তরের এই এলাকায় ইসরায়েলের স্থলঅভিযান চলছে।

আর গাজার দক্ষিণাঞ্চলে সচল আছে ১১ টি হাসপাতালের মধ্যে ৮ টি হাসপাতাল। ইসরায়েল গাজার উত্তরের লোকজনদের এই দক্ষিণেই সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

দক্ষিণের হাসপাতালগুলোর মধ্যে কেবল মাত্র একটি হাসপাতালেই গুরুতর ট্রমা রোগীদের চিকিৎসা এবং জটিল অস্ত্রোপচার করার সক্ষমতা আছে।

ডব্লিউএইচও এর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনরায় সচল করে তুলতে না পারলে এর পরিণামে বোমা হামলায় আমরা যত মানুষকে মরতে দেখছি, তার চেয়েও আরও বেশি মানুষকে রোগে ভূগে মরতে দেখব।”

ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে মানবিক যুদ্ধবিরতির পঞ্চম দিন চলার মধ্যে মঙ্গলবার ডব্লিউএইচও এর এই সতর্কবার্তা এল।

হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর ৪৮ দিন পর কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহের শুক্রবার থেকে গাজায় চার দিনের ‘মানবিক’ বিরতি শুরু হয়েছিল।

সোমবার রাতেই এ বিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এই বিরতি আরও দুদিন অর্থাৎ, ৪৮ ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি হওয়ার খবর জানায় কাতার।

আগের চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির চার দিনে হামাসের অন্তত ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া, বিনিময়ে ইসরায়েলের তাদের কারাগারে বন্দি অন্তত ১৫০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া এবং গাজায় ত্রাণবাহী ২০০ ট্রাকের পাশাপাশি এক লাখ ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি ও গ্যাস ভর্তি অন্তত চারটি লরি প্রবেশের অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল।

সেই নিয়মে প্রথম দফায় হামাসের ৩৯ জন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছে ইসরায়েলের জেলে থাকা ১১৭ জন ফিলিস্তিনি বন্দি। আর সোমবার মুক্তি পায় আরও ১১ ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ৩৩ ফিলিস্তিনি।

অতিরিক্ত ১০ জন করে ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ একদিন করে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন।

গত ৭ অক্টোবর গাজার সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের নজিরবিহীন হামলা সবাইকে হতবাক করে দেয় এবং সাধারণ ইসরায়েলিরা হতভম্ব হয়ে পড়ে।

সেই হামলায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং তাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। ওই দিন প্রায় ২৪০ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখে হামাস।

হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে প্রায় সবদিক থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। তাদের অবিরাম বোমাবর্ষণ ও গোলা হামলায় ১৪ হাজারেরও বেশি গাজাবাসী ফিলিস্তিনি নিহত হয়, এদের প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু।