১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পোর্টল্যান্ডে সেনা মোতায়েনে ট্রাম্পের আদেশ অবৈধ, রায় মার্কিন বিচারকের

এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় আইনি ধাক্কা।

পোর্টল্যান্ডে সেনা মোতায়েনে ট্রাম্পের আদেশ অবৈধ, রায় মার্কিন বিচারকের
ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, আক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহের মতো সত্যিকারের জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের যে ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প তার অপব্যবহার করছেন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Nov 2025, 12:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:05 PM

অরেগনের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আদেশকে অবৈধ বলেছেন মার্কিন এক ফেডারেল বিচারক। 

শুক্রবার তার এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় আইনি ধাক্কা, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক ক্যারিন ইমারগুটের দেওয়া এ রায়ই প্রথম কোনো আদেশ, যা অভিবাসন কর্তৃপক্ষবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ স্থায়ীভাবে আটকাল।

ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন লস এঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসিতেও বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের চেষ্টা করছেন। 

ইমারগুট এর আগে পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন ঠেকাতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছিলেন।  

শুক্রবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মকর্তাদের রক্ষায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে যে আইনি কর্তৃত্ব রয়েছে তা ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প।

“মার্কিন শহরগুলোতে চলমান অরাজকতায় চোখ বুজে থাকতে পারেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এ বিষয়ে উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার করবে বলে আমরা আশাবাদী,” বলেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে রয়টার্স ইমেইলে মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে অরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সাড়া দেয়নি।

ট্রাম্পের নিয়োগকৃত ইমারগুট বলেছেন, পোর্টল্যান্ডে বিদ্রোহ চলছে বা বিক্ষোভের কারণে সরকার ফেডারেল আইন প্রয়োগে সক্ষম হচ্ছে না এমনটা বলার মতো অবস্থায় নেই ট্রাম্প প্রশাসন।

“ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে মাঝে মধ্যে যে বাধা দেখা যাচ্ছে তা খুবই নগণ্য এবং ছোটখাট বিক্ষোভ অভিবাসন আইনের বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার প্রমাণ নেই,” ১০৬ পৃষ্ঠার মতামত ও রায়ে বলেছেন ইমারগুট। 

নিজের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েনের ঘটনা বিরল; অথচ ট্রাম্প এখন বিক্ষোভ দমাতে এটাকেই নিয়মে পরিণত করতে চেষ্টা করছেন।

তার প্রশাসন শুক্রবারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলেই মনে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টেই বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। 

মাঝে মধ্যে হওয়া সহিংসতাকে বাড়িয়ে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদ্রোহ দমনের জন্য রাখা আইনকে কাজে লাগিয়ে সেনা মোতায়েন করছেন অভিযোগ তুলে সেপ্টেম্বরে পোর্টল্যান্ড শহর ও অরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। 

ইমারগুট তার রায়ে বলেছেন, পোর্টল্যান্ডে যে সহিংসতা হয়েছে তা খুবই ছোট আকারের, বিচ্ছিন্ন, অসংগঠিত এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের আদেশ দেওয়ার আগেই মোটাদাগে ওই সহিংসতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। 

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, আক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহের মতো সত্যিকারের জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের যে ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প তার অপব্যবহার করছেন। 

ইমারগুট প্রথমে গত ৫ অক্টোবর অন্তর্বর্তী এক আদেশে পোর্টল্যান্ডে সেনা মোতায়েন আটকে দিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলটি বিবেচনা করার কথা ভাবছে নাইন্থ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস।