কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ভিডিও: আগুনের কুণ্ডুলি, ভেঙে পড়ল ছাদ
আইআরজিসি বলেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র রোধ করতে ব্যর্থ হওয়া একটি ত্রুটিপূর্ণ মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক নম্বর টার্মিনালে ইরানি ড্রোনের আঘাত হানার মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ করেছে কুয়েত। এতে ড্রোনের আঘাতে বড় ধরনের আগুনের কুণ্ডুলি ও টার্মিনালের ছাদ ধসে পড়তে দেখা গেছে।
বুধবারের এ হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত ও ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে বলে কুয়েতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ হামলায় কুয়েতের বিমান চলাচল অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত বিমানবন্দরকে লক্ষ্যস্থল করার কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র রোধ করতে ব্যর্থ হওয়া একটি ত্রুটিপূর্ণ মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর সামাজিক মাধ্যম এক্স এ ভিডিও ফুটেজটি প্রকাশ করেছে। এই ভিডিওতে ওই প্রাণঘাতী হামলার প্রথম মুহূর্তগুলো দেখা গেছে। প্রোজেক্টাইলটি ভবনটিতে আঘাত হানার পর টার্মিনালের ছাদ ধসে পড়তেও দেখা গেছে।
ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, “ড্রোন যোগে ইরানের চালানো বর্বর অগ্রাসনের প্রথম মুহূর্তগুলো। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ওয়ান (টি১) ৩ জুন ২০২৬ হামলার শিকার হয়েছে আর এতে মানুষ গুরুতর জখম ও ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
এই ড্রোনের আঘাতে ইরানের মূল বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে একজন নিহত ও আরও ৬৩ জন আহত হয়েছে। হামলার পর এয়ারফিল্ডটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল।
যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের এক নাগরিক নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এ হামলার প্রবাসী চার বাংলাদেশিও আহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরা ও সেখানে যাওয়া ভ্রমণকারীরা তুলনামূলকভাবে ‘স্বর্গে’ আছেন বলে বিবেচনা করতেন। কিন্তু এখন তারা প্রায়ই নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী ইরানি দ্বীপ কেশমে ও দেশটির বন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এসব হামলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর আসলেও মার্কিন বাহিনী হামলা ‘প্রতিহত’ করার দাবি করেছে।
এরমধ্যে আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার সহযোগীদের বলেছেন, তেহরান যদি মার্কিন সেনাদের হত্যা করে তাহলে তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে; মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এমনটি জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
আরও পড়ুন:
