১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ থেকে দূরে থাকার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত কমান্ড মার্কিন বাহিনীগুলোকে হরমুজ প্রণালি থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছে।

হরমুজ থেকে দূরে থাকার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 May 2026, 04:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া জাহাজগুলো ‘মুক্ত করতে সাহায্য’ করবে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এমন ঘোষণা দেওয়ার পর পাল্টা হুঁশিয়ার দিয়ে মার্কিন বাহিনীগুলোকে হরমুজ থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।   

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে আছে। 

ট্রাম্প বলেছেন, “এসব জাহাজের অনেকগুলোতেই তেমন খাবার নেই আর অধিকাংশ নাবিকদের সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জাহাজে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্য সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”

রোববার ট্রাম্প জানিয়েছেন, যে দেশগুলোর জাহাজ প্রণালিটিতে আটকা পড়ে আছে তাদের অনুরোধে তিনি ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নাম দেওয়া এই অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন।

তবে কোন দেশগুলো ওয়াশিংটনের সাহায্য চেয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। ট্রাম্প মানবিক সদিচ্ছার ভঙ্গিতে এই অভিযানের পরিকল্পনা তুলে ধরলেও এটি কীভাবে শুরু করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। 

শুধু বলেছেন, “আমরা এই দেশগুলোকে বলেছি যে আমরা তাদের জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে ওই বিধিনিষেধ কবলিত জলপথগুলো থেকে নিরাপদে বের করে দেবো, যেন তারা অবাধে ও সক্ষমতার সঙ্গে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।”

রয়টার্স জানিয়েছে, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত কমান্ড মার্কিন বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে হরমুজ প্রণালি থেকে দূরে থাকতে বলেছে। 

তারা বলেছে, যে কোনো হুমকির ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে। বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়হীন যে কোনো ধরনের চলাচল থেকে বিরত থাকতে বলেছে। 

এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহি বলেছেন, “আমরা বারবার বলছি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আমাদের হাতে আর নিরাপদ পথ পেতে জাহাজগুলোর দরকার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা।

“আমরা সতর্ক করছি, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালির দিকে এগনোর ও প্রবেশের সংকল্প করে তাহলে আমরা হামলা চালাবো।”  

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ১৫ হাজার সেনা এবং শতাধিক স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক আকাশযান নিয়ে এই প্রচেষ্টায় সমর্থন দেবে।  

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই প্রতিরক্ষামূলক মিশনে আমাদের সমর্থন অপরিহার্য।”  

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে না পারায় পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছে। 

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অর্গানাইজেশন এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকারে কয়েকটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে ৭৮ নটিক্যাল মাইল দূরে ঘটনাটি ঘটেছে। জাহাজটির সব নাকিকরা অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: 

হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজ মুক্ত করতে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র